স্কুলের মুখ দেখেননি কখনও, নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বৃদ্ধা আজ ১০ কোটি টাকার মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদন :পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলে জীবনে এগোনো এক প্রকারের অসম্ভব। ছেলেবেলা থেকেই এই কথা সকলেই শুনে বড় হয় প্রতিটি ছেলে-মেয়ে। শিক্ষা সত্যি অপরিহার্য। তবে সেই শিক্ষার আলো যদি নাও পাওয়া যায়, তবে নিজের সৎ প্রচেষ্টার দ্বারাও স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। মহারাষ্ট্র পুনের অধিবাসী বৃদ্ধা আপলি আজি (Aapli Aaji) এমনই এক উদাহরণ। ছেলেবেলা থেকেই শিক্ষাগ্রহনের সুযোগ পান নি তিনি। তবে নিজের অদম্য ইচ্ছা দিয়েই আজ তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক।

লেখাপড়া না জানলেও তিনি ছিলেন সুগৃহিনী। রান্নার হাতও অসাধারণ। চার ভাই পাঁচ বোনের সংসারে ছেলেবেলা থেকেই তিনি রান্না করতে পারতেন। প্রতিটি মানুষের মতো তিনিও করোনা কালে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিলেন। গোটা পৃথিবী তখন অনলাইনে নির্ভর। জিনিসপত্র কেনা থেকে লেখাপড়া সবকিছুই তখন মুঠোফোনে। তার মতো গৃহবন্দী অবস্থায় মন খারাপ করেছিল তার ছোট্ট নাতিও। এমতাবস্থায় তার অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া নাতি যশ সময় কাটানোর জন্য ইউটিউবে একটি চ্যানেল খোলে।

ঠাকুরমার নিত্য নতুন রান্না সেই চ্যানেলে আপলোড করতে থাকে যশ। বর্তমানে সেই চ্যানেলে প্রচুর পরিমাণে রান্নার ভিডিও পাওয়া যায়। প্রথম এক মাসের মধ্যেই সেই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখের কাছাকাছি। সেই সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বর্তমানে কোটি ছাড়িয়েছে। প্রতি মাসে ইউটিউব থেকে তিনি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা রোজগার করেন। এখন তিনি মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের কাছাকাছি সরল কাসার গ্রামে বাস করেন।

তবে চ্যানেল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাও। চ্যানেলটি হ্যাকার দ্বারা হ্যাক হয়ে যায়। তবে সেই সমস্যার কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে ঠাকুমা-নাতির জুটি। বর্তমানে তাঁরা ‘গোল্ডেন প্লে বাটন’ পর্যন্ত পেয়েছেন ইউটিউবে পক্ষ থেকে। দর্শকদের ভালোবাসায় এবং ঠাকুমার রান্নার গুনে চ্যানেল এগিয়ে চলেছে আজও।

Back to top button