লেবুর রস ব্যবহার করে লেবুর খোসাগুলি ফেলে দেবেন না, জানেন কি জাদুকরী কাজ হয় লেবুর খোসা দিয়ে?

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য খাবারগুলির মধ্যে অন্যতম হলো লেবু। কখনো ফল হিসেবে আবার কখনো অন্য কোন খাবারের সাথে এই লেবু কিন্তু আমরা খেয়ে থাকি। কমবেশি এই ফলটি খেতে ভালোবাসেন না এরকম মানুষ হয়তো খুব কমই রয়েছেন। চা থেকে শুরু করে অনেক রান্নার কাজেই কিন্তু লেবুর ব্যবহার রয়েছে। লেবুর উপকারিতা সম্পর্কে কমবেশি সকলের মধ্যেই কিন্তু জ্ঞান রয়েছে।

তবে খুব কম মানুষের মধ্যেই কিন্তু লেবুর খোসার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে জ্ঞান দেখা যায়। আপনারা হয়তো জানেন না এই লেবুর খোসা যদি ফেলে না দেন তাহলে কিন্তু বাড়ির অনেক কাজেই সেটা লাগতে পারে। এমনকি গাছের পরিচর্যাতেও লেবুর খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক। লেবুর খোসার কি কি কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে সব কিছুই আমরা আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারবো।

গাছের পরিচর্যায় লেবুর খোসা ব্যবহার করার পদ্ধতি :

লেবুর খোসার সাহায্যে গাছকে কিন্তু সতেজ রাখার পাশাপাশি আরো অনেক কাজ করা যেতে পারে। তার জন্য একটি মিক্সিং জারের মধ্যে বেশ কয়েকটি লেবুর খোসা এবং সামান্য জল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিহি পেস্টটিকে আপনাদের একটি বাটির মধ্যে ঢেলে দিতে হবে। তবে কোনোভাবেই কিন্তু এই লেবুর খোসার মিশ্রণ সোজাসুজি গাছে প্রয়োগ করা যাবে না।

আপনাদের এক লিটার জলে ২ চামচ অর্থাৎ যদি পাঁচ লিটার জল নেন সে ক্ষেত্রে দশ চামচ পরিমাণ এই মিশ্রণ ঢেলে নিতে হবে। এই মিশ্রণ ছাড়াও আপনাদের এই জলের মধ্যে আরও কিছু উপাদান মেশাতে হবে। প্রথমেই এর মধ্যে দিতে হবে কিছুটা পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো। এই হলুদ গুঁড়ো কিন্তু কীটনাশকের কাজ করে থাকে অনেক সময়। এরপর আপনাদের মিশিয়ে দিতে হবে লিটার প্রতি এক চামচ করে খাওয়ার সোডা।

পাশাপাশি আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে যে কোন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু। এক টাকার প্যাকেট ব্যবহার করলেও কোনো সমস্যা নেই। তারপর ভালোভাবে হাতের সাহায্যে বা বড় কোন ব্রাশের সাহায্যে আপনাদের এই মিশ্রণটিকে কিন্তু জল ঘোলা করিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল গাছের পরিচর্যার জন্য লেবুর খোসা দিয়ে উপযুক্ত দ্রবণ।

গাছের পরিচর্যায় লেবুর খোসার ভূমিকা:

১) বর্ষাকালে কিন্তু গাছের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব অত্যন্ত বেশি পরিমাণে দেখা যায়। কেঁচো, কেন্নো পিঁপড়ে বা শামুক অত্যন্ত বেশি পরিমাণে কিন্তু গাছের মধ্যে আক্রমণ করে থাকে। যদি আপনাদের বাড়ীর গাছেও টবের মাটিতে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায় তাহলে এই দ্রবণ ছড়িয়ে দিলেই কিন্তু সেই সমস্যার আপনারা সমাধান পেয়ে যাবেন। তবে অতিরিক্ত বেশি পরিমাণে কিন্তু এটি প্রয়োগ করা যাবে না।

২) যে সমস্ত গাছ সাধারণত টবে লাগানো থাকে বর্ষাকালে দেখা যায় তাদের গোড়ায় অত্যন্ত বেশি রকমের ফাঙ্গাস সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে কিন্তু গাছের প্রচুর পরিমাণে ক্ষতি হতে পারে এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এই ফাঙ্গাস দূর করার জন্যও আগের পদ্ধতির মতোই কিন্তু গাছের গোড়ায় আপনারা এই দ্রবণ দিয়ে দিতে পারেন।

৩) যদি আপনাদের বাড়িতে থাকা জবা ,পেয়ারা প্রভৃতি জাতীয় গাছের পাতা কুঁকড়ে গিয়ে থাকে তাহলেও এই দ্রবণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী। এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে কিন্তু আপনাদের প্রথমেই একটি বোতলের মধ্যে ছাঁকনি বসিয়ে দ্রবণটাকে ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে।। তারপরে এটাকে একটি স্প্রে বোতলে ভরে খুব সহজেই যে সমস্ত জায়গায় সবথেকে বেশি পোকামাকড়ের উপদ্রব হচ্ছে বা পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে সেখানে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

৪) যদি কোন কারনে গাছের পাতার রং দীর্ঘ সময় ধরে হলুদ হয়ে গিয়ে থাকে এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয় তাহলেও কিন্তু স্প্রে বোতলের সাহায্যে আপনারা এই দ্রবণ গাছের মধ্যে স্প্রে করে দিতে পারেন। কয়েকদিনের মধ্যেই ফলাফল আপনারা হাতেনাতে দেখতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button