জানেন টবে থাকা গাছে খাবার সোডা দিলে কি হয়? জানলে আপনিও দেওয়া শুরু করবেন গ্যারান্টি!

নিজস্ব প্রতিবেদন: খাবার সোডা কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই কমবেশি থাকে যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ক্লিনিং থেকে শুরু করে গাছের পরিচর্যা অনেক কিছুতেই কিন্তু এই খাবার সোডা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব গাছে খাবার সোডা দিলে কি কি হতে পারে সেই প্রসঙ্গে।

আপনাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা বাড়িতে বিভিন্ন ফুল ফল থেকে শুরু করে নানান ধরনের শাকসবজি চাষ করার চেষ্টা করেন। বাগানপ্রেমী মানুষদের জন্য কিন্তু এটা অত্যন্ত পছন্দের কাজ বলা যায়। গাছের উপরে খাবার সোডার ব্যবহার দেখলে কিন্তু নিঃসন্দেহে কম বেশি আপনারা সকলেই অবাক হতে বাধ্য হবেন এ কথা আমরা বলতে পারি। যদি সঠিকভাবে আপনারা এটা ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু আপনাদের গাছ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে।

গাছে খাবার ব্যবহার করে আপনারা যে সমস্ত সমস্যাগুলি দূর করতে পারবেন :

১) লক্ষ্য করে দেখবেন বর্ষাকালের টবের মাটিতে কেঁচো, কেন্নো সহ বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস দেখা যায়। এটির থেকে গাছকে দ্রুত মুক্ত না করলে কিন্তু গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। এখানে আপনারা খাবার সোডা কাজে লাগাতে পারেন।

২) লঙ্কা গাছ থেকে শুরু করে অনেক গাছেই ফুল ফলে পরিণত হবার আগে ঝরে পড়ে যায়। অথবা যে কোন গাছের পাতা পুড়ে যাওয়া থেকে মুক্তি পেতেও কার্যকরী থাকছে খাওয়ার সোডা।

৩) জবা গাছের ফুল বা অন্যান্য কোন ফুল গাছ থেকে পুরোপুরি ফুটে ওঠার আগেই ঝরে যাওয়া, গাছের উপরে থাকা ছত্রাক বা নানান ধরনের পোকার সমস্যা কিছুই কিন্তু খাওয়ার সোডার সাহায্যে দূর করা যেতে পারে।

খাওয়ার সোডার প্রয়োগ:

প্রথম পদ্ধতি:

প্রথমে একটি বালতির মধ্যে আপনাদের ৫ লিটার জল নিয়ে তাতে পাঁচ চামচ পরিমাণ খাবার সোডা মিশিয়ে দিতে হবে। সেই জল ভালোভাবে গুলে নেওয়ার পর গাছের টবের মাটিতে ফাঙ্গাস ,কেঁচো, কেন্নো বা ছত্রাকের উপদ্রব থাকলে সেখানে এই জল আপনারা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এর জন্য প্রথমেই আপনাদেরকে টবের মাটি সামান্য খুড়ে নিতে হবে তারপর মগের সাহায্যে যেভাবে গাছে জল দেন তেমনভাবেই ঢেলে দিতে হবে। মাসে একবার যদি আপনারা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন তাহলেই কিন্তু সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি:

এই পদ্ধতিতে আমরা বলব গাছের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পিঁপড়ে থেকে শুরু করে নানান ধরনের পোকামাকড়ের সমস্যার কথা। এর জন্য আপনাদের প্রথমেই এক লিটার জলের মধ্যে এক চামচ পরিমাণ খাওয়ার সোডা আর সামান্য হলুদ গুঁড়ো যোগ করে দিতে হবে।যে হলুদ আপনারা রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকেন সেটা দিলেই হবে। চার থেকে পাঁচ ফোটা হ্যান্ডওয়াশ বা সামান্য পরিমাণে শ্যাম্পু যোগ করে দিন।

ভালো করে এই মিশ্রণটি গুলে নেওয়ার পর একটি ছাকনির সাহায্যে ছেঁকে নিতে হবে। তারপর একটি স্প্রে বোতলে ভরে ফেলুন। এবারে সব ধরনের গাছে যেখানে পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিচ্ছে সেখানে এটাকে স্প্রে করতে পারেন। 15 দিন অন্তর আপনারা যদি এই স্প্রে করতে পারেন তাহলে কিন্তু আর আপনাদের গাছে কোন রকমের পোকামাকড় থাকবে না।

তৃতীয় পদ্ধতি:

তৃতীয় পদ্ধতিটি আমরা আপনাদেরকে বলব যাতে গাছে যদি কখনো ফুল না ফোটে বা ফুল ফোটার আগেই ঝরে পড়ে যায়, সেই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য। ১ লিটার জলে হাফ চামচ পরিমাণ খাবার সোডা যোগ করে দিন। তারপর একটি স্প্রে বোতলে এই জল ভরে যে সমস্ত গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে অথবা পোকামাকড়ের উপদ্রব হচ্ছে সেখানের জায়গাগুলিতে এটিকে স্প্রে করে দিন। বাড়িতে যে ইনডোর প্ল্যান্ট গুলি থাকে সেগুলিকে সতেজ আর সুন্দর রাখার কাজেও আপনারা এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

চতুর্থ পদ্ধতি:

ছাদ বাগানে গাছ লাগানোর পর যে সমস্যাটা প্রায় সময় দেখা যায় তা হল টবের চারপাশে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে পিঁপড়ে থেকে শুরু করে কেঁচো বা কেন্নোর উপদ্রব হয়ে থাকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছুটা পরিমাণের শুকনো খাবার সোডা নিয়ে আপনারা যদি টবের আশেপাশের দূরত্বের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন তাহলে কিন্তু আর কোন চিন্তা থাকবে না। ব্যাস উপরিয়ক্ত পদ্ধতিগুলি সঠিকভাবে অবলম্বন করলেই কিন্তু খুব সহজে আপনার বাড়ির বাগান সমস্ত ধরনের অসুবিধা থেকে চিরতরে মুক্ত থাকবে।

Back to top button