‘বৌমা’.. (সত্য ঘটনা অবলম্বনে..) এক দারুণ গল্প!

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও কিন্তু এমন বহু মানুষ রয়েছেন যারা অবসর সময়ে বিভিন্ন ধরনের গল্প বা কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু আজকাল আর সময় করে লাইব্রেরী বা বইয়ের দোকানে মানুষের পক্ষে ঢু মারা সম্ভবপর হয় না। তাই আজকাল বিভিন্ন গল্প বা সাহিত্য পড়ার জন্য মানুষের জীবনে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাপ্লিকেশন অথবা ই-বুক। এরকমই একটি এপ্লিকেশন হল প্রতিলিপি।

যারা হয়তো কম-বেশি গল্প পড়তে ভালবাসেন তারা এই এপ্লিকেশনটির সঙ্গে পরিচিত রয়েছেন। এখানে প্রেম-ভালোবাসা থেকে শুরু করে ভৌতিক অথবা রহস্য রোমাঞ্চ সব ধরনের গল্প, উপন্যাস, কবিতা পাওয়া যায়। বহু সেলিব্রিটি লেখক থেকে শুরু করে সাধারণ মানের লেখকরাও এখানে নিজের লেখনীর মাধ্যমে প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে থাকেন।

সম্প্রতি এই প্রতিলিপি অ্যাপ্লিকেশন এর মাধ্যমেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে একটি গল্প। এই গল্পের শিরোনাম ‘বৌমা’। যদিও গল্পের সম্পূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা হয়নি তবে যে সারাংশটি তুলে ধরা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে আপনাদের সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ার জন্য আগ্রহী করে তুলতে পারে।

গল্পের কিছু অংশ:

ফ্রিজ থেকে তরকারির বাটিটা বের করতেই চাউমিনের প্যাকেট টা চোখে পড়ল উমার। অভ্র তারমানে অফিস থেকে ফেরার সময় নিয়ে এসেছে। দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। অভ্রর বউ টুম্পা চাউমিন খেতে খুব ভালবাসে। অভ্র বউকে খুশি করতে এনেছে। রাতের খাবার তাহলে আজ বৌমা মুখে তুলবে না। এভাবে লাই দিয়ে বউকে মাথায় তুলছে! দিন দিন ছেলেটা স্ত্রৈণ হয়ে যাচ্ছে। একেবারে বউ এর আঁচলের তলায় ঢুকে পড়েছে। উমার একমাত্র ছেলে। কত আদরের ছেলে, যে মা ছাড়া কিছুই বুঝত না , দুদিনে তাকে কেড়ে নিল বৌটা।

ক্ষোভে দুঃখে মাঝে মাঝে চোখে জল চলে আসে উমার। এই তো সেদিন ড্রইংরুমে বসে অভ্র আর টুম্পা কিছু একটা নিয়ে হাসাহাসি করছিল। উমা যেতেই দুজনেই চুপ। তাও তিনি যেচে জিজ্ঞাসা করে বসলেন “কি হয়েছে রে কি নিয়ে হাসছিস তোরা?” অভ্র বেমালুম বলে দিল “ও কিছু না। ও তুমি বুঝবে না।”

উমাদেবী নাকি বুঝবেন না!! অভ্র কি করে মুখ দিয়ে বের করল কথাটা! যে অভ্র ছোট্ট থেকে সব কথা উমাকে বলত। স্কুলে গিয়ে কি কি হল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব। তারপর টিউশনের কথা, স্যার কি বলেছেন সেই সব কথা, বন্ধুদের কথা, কোনো কিছু গোপন করতো না অভ্র। তারপর কলেজে গিয়েও তাই।

কলেজে উঠে সব কথা হয়তো এত পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে না বললেও বেশির ভাগই বলত। সেই অভ্র আজ কতো পাল্টে গেছে। এই সবই যে বউয়ের প্ররোচনায় তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। হাওয়াই চটির ফট্ ফট্ শব্দ তুলে ছেলের ঘরে চলে এলেন উমাদেবী। “তোরা যে রাতে বাড়ির খাবার খাবি না সেটা আগে বললেই হত। তোদের জন্য বানাতাম না।

অভ্র – “না মানে ঐ দোকানের পাশ দিয়ে আসছিলাম। টুম্পা চাইনিজ খেতে পছন্দ করে তাই আরকি।”অভ্র যে তার বউয়ের জন্য এনেছে সে তো উমাদেবী ভাল করেই বুঝেছেন, কিন্তু অভ্রর এই সহজ স্বীকারোক্তি উমার মাথায় যেন আগুন ধরিয়ে দিল। ছেলে শুধু বউ ভেড়ুয়া হয় নি, সঙ্গে নির্লজ্জ ও হয়েছে।

গর্জে উঠলেন উমা দেবী – থামো তুমি। যতদিন যাচ্ছে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলছ। লজ্জা শরম কি সব শরীর থেকে মুছেই ফেললে? অ্যাঁ? তোমাদের শুধু একটাই অনুরোধ দয়া করে ভবিষ্যতে এভাবে খাবার নষ্ট করো না।” বলে আবার পা দাপিয়ে ফিরে আসছিলেন পিছন থেকে টুম্পা বলে উঠল- “নষ্ট হবে না মা।

ফ্রিজে তুলে রাখব। কাল সকালে ওটাই আমরা খেয়ে নেব।“180° ঘুরে গিয়ে উমা চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন “আমার ছেলেকে আমি কখনো বাসি ভাত খাইয়ে রাখিনি বৌমা। এসব ওর অভ্যাস নেই।” “অভ্র বলে উঠল – না মা আমার কোনও অসুবিধা হবে না। ফ্রিজে থাকলে খাবার ভালই থাকে।” আর সহ্য হল না উমার। টুম্পার দিকে একবার অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে সোজা চলে এলেন নিজের ঘরে।

খাটের ওপরে বসে পড়লেন উমাদেবী। এতক্ষণে চোখে জল এসে গেছে ওনার। ছেলেটা পর হয়ে গেল! উমাদেবীর কত আদরের সন্তান। সেই সন্তানের কাছে আজ বউই আপন। মা যেন কেউ না। “কি হয়েছে তোমার? এমন করে বসে আছ যে?”কখন যে উমাদেবীর স্বামী অনিমেষ ঘরে ঢুকেছেন তিনি খেয়ালই করেননি। এতক্ষণে স্বামীকে দেখে হতাশ গলায় বললেন “আমি হেরে গেলাম।

সব শেষ।”অনিমেষ- কি হয়েছে বল না উমাদেবী- “ওই মেয়েটা আমার ছেলেকে গ্রাস করে ফেলছে আস্তে আস্তে। আমি কিচ্ছু করতে পারছি না।” উমাদেবীর গলায় হাহাকার!”কি উল্টো পাল্টা বকছ?” ধমকে উঠলেন অনিমেষ।উমাদেবী -“অভ্র আজ আবার টুম্পার জন্য চাউমিন কিনে এনেছে। দুদিন আগেই মোমো কিনে এনেছিল।

“অনিমেষ – “তাতে কি হল?” উমাদেবী- “তাতে কি হল মানে? কেন কিনবে অভ্র? যে অভ্র কোনোদিন আমাকে ছাড়া কিছু বুঝতোই না সে আজ একটা পরের মেয়েকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। অনিমেষ- “তুমি কি পাগল হলে উমা? টুম্পা তো অভ্রর স্ত্রী। তাকে অভ্র ভালবাসবে না?”উমাদেবী উত্তর দিতে পারলেন না। অনিমেষ কেন উমাদেবীকে একটুও বুঝতে পারে না।

নাকি বুঝতে চায় না? অভ্রর জন্ম থেকেই উমাদেবী ভেবে এসেছেন ছেলের ওপরে শুধু ওনার অধিকার। তিনি অভ্রকে ওনার শ্বশুর শাশুড়ির কাছেও বেশি যেতে দিতেন না। পাছে অভ্র ওদেরকে ভালবেসে ফেলে। মুখে কিছু বলতে না পারলেও সব সময় ছেলে কে আগলে আগলে রাখতেন। এমন মা ন্যাওটা বানিয়েছিলেন অভ্র মা ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে চাইতো না।

উমাদেবীর শাশুড়ি অভ্রকে কোলে নিলে অভ্র ছটফট করে কোল থেকে নেমে চলে আসত উমাদেবীর কোলে। উমাদেবী খুব তৃপ্তি করে ব্যাপারটা উপভোগ করতেন। সেই ছেলে আজ তার বউকে ভালবাসছে এটা তিনি কি করে সহ্য করবেন। তার যে বুক ফেটে যাচ্ছে।ছেলের এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না ওনার। কিন্তু ছেলে যে নিজেই একটা মেয়ে পছন্দ করে আনল।

এটা উমাদেবীকে খুব পীড়িত করেছিল। প্রেম করে বিয়ে করলে তো বউয়ের ওপরে খুব টান হবে। ছেলে তো বৌএর হাতের মুঠোয় চলে যাবে। না না সেটা হতে দেওয়া যায় না। তিনি কিছুতেই অভ্রর পছন্দ করা মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হন নি। নাওয়া খাওয়া ত্যাগ করেছিলেন। ছেলে শেষ অবধি মায়ের জেদের কাছে হার মানে। প্রেমিকার সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে। উমাদেবী আর দেরি করেন নি। তাড়াতাড়ি ছেলের জন্য পাত্রী দেখা …

যদি আপনারা গল্পের বাদবাকি অংশ পড়তে চান তাহলে অবশ্যই প্রতিলিপি অ্যাপে গিয়ে শিরোনাম দিয়ে গল্পটি সার্চ করে নিতে পারেন। এই অ্যাপে কিন্তু আপনারা আরো নানান ধরনের গল্প পেয়ে যাবেন। এই ধরনের আরো নানান তথ্যের খোঁজ পেতে আমাদের পোর্টালের পাতায় নজর রাখতে থাকুন।

Back to top button