বাচ্চাকে সঠিক তেল মাখাচ্ছেন তো? জানুন বাচ্চার মালিশের জন্য কোন তেল সবচেয়ে বেশি নিরাপদ

নিজস্ব প্রতিবেদন : একটি শিশু জন্মের পরে তাকে ভালোভাবে পরিচর্যা করা কিন্তু প্রত্যেকটা বাবা-মায়ের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এই পরিচর্যা গুলির মধ্যে অন্যতম হলো তেল মালিশ করা। যদিও অনেক চিকিৎসক আজকাল মনে করে থাকেন যে বাচ্চাদের শরীরে তেল মালিশ না করলেও হয়। কিন্তু বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে প্রমাণিত যদি আপনারা ঋতু অনুযায়ী শিশুর ত্বকে সঠিক তেল দিয়ে মালিশ করতে পারেন তাহলে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে লাভবান হবেন।

বিভিন্ন স্টাডি থেকে আমরা জানতে পারি যে এই তেল মাখানোর সময় যিনি মাখাচ্ছেন তার সঙ্গে শিশুর একটা আলাদা মানুষের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পাশাপাশি ব্রেনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও কিন্তু এই তেলের এক প্রকার আলাদাই ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত তেল মালিশ করলে শিশুর ত্বকে খুব ভালো রক্ত সঞ্চালন হয়। তবে তেল নানা রকম আছে৷ তার মধ্যে সব কটাই যে সব বাচ্চার সহ্য হবে এমন নয়৷ স্পর্শকাতর ত্বক হলে তো বিশেষ করে৷ বিশেষ করে প্রত্যেক ঋতু অনুযায়ী কিন্তু আপনারা আলাদা তেল মালিশ করতে পারেন। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। প্রথমেই আপনাদের বলব যদি আপনার চিকিৎসক আপনাকে বাচ্চাদের গায়ে তেল মালিশ করতে বারণ করে থাকে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিন্তু আর করবেন না।

শিশুদের শরীরে কতবার তেল মালিশ করা উচিত?  শিশুদের শরীরে মোটামুটি এক থেকে দুইবার তেল মালিশ করা উচিত। এর মধ্যে আপনারা সকালে স্নানের আগে একবার মালিশ করতে পারেন। আরো একবার রাতে শুতে যাওয়ার আগে মালিশ করতে পারেন। মোটামুটি শিশু ছোট অবস্থায় যখন থাকবে তখন দুইবার মালিশ করাই কিন্তু ভালো। সকালে যদি আপনারা তেল মালিশ করেন তাহলে কিন্তু সারাদিন শিশু অত্যন্ত রিলাক্স ফিল করবে।

আর রাতে শুতে যাওয়ার আগে যদি আপনারা তেল মালিশ করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু শিশুর ঘুম খুবই ভালো হবে। সুতরাং যদি আপনার বাচ্চার নিয়মিত ঘুমের সমস্যা থাকে তাহলে কিন্তু এই তেল মালিশ অত্যন্ত বেশি রকমের কাজে দেবে। তবে যেসব শিশুর ঠান্ডা লেগে যাওয়ার হাত বেশি রয়েছে তাদের কিন্তু রাত্রে তেল মালিশ না করাই ভালো।

  • শিশুকে ঋতু অনুযায়ী তেল মালিশ করার সঠিক পদ্ধতি:

প্রথমেই বলে রাখি সব ধরনের তেল কিন্তু আপনার শিশুর ত্বকের জন্য ভালো নয়। তাই আপনাদের প্রথমেই যাচাই করে নিতে হবে যে তেল আপনারা শিশুর ত্বকের জন্য ব্যবহার করছেন সেটা তার জন্য সঠিক কিনা। এর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে শিশুর ত্বকের কোন একটি জায়গায় ঐ তেল সামান্য পরিমাণে লাগিয়ে দেখে নিতে পারেন কোন রকমের ফুসকুড়ি বা জ্বালাপোড়া হচ্ছে কিনা!

যদি সে সব কিছু না হয়ে থাকে তাহলে সহজেই আপনারা তেল মালিশ করতে পারেন। কিন্তু যদি কোন রকমের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু বুঝে নেবেন সেই তেল আপনার শিশুর শরীরে সহ্য হচ্ছে না। ঋতু অনুযায়ী আপনাকে কিন্তু অবশ্যই শিশুর শরীরে তেল মালিশের ধরন পরিবর্তন করে দিতে হবে। কারণ ঋতু অনুযায়ী অনেক সময় আপনাদের শিশুর ত্বক শুকনো অথবা তৈলাক্ত হয়ে গিয়ে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবে যদি আপনারা তেল মালিশের প্রকার পরিবর্তন না করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু সমস্যা হতে পারে।

  • শীতকালে শিশুর শরীরে মাসাজ করার জন্য সবথেকে ভালো তেল:

সরষের তেল: শীতকালে আপনার শিশুর ত্বকে মাসাজ করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে যে তেলটির ব্যবহার চলে আসছে সেটা হল সরষের তেল। এই তেল কিন্তু শীতকালে শিশুর শরীরে মাসাজ করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। এই তেল শিশু শরীর গরম রাখার পাশাপাশি হাড় শক্ত করে, সর্দি-কাশি সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও দূরে রাখে। যাদের অত্যন্ত বেশি রকমের সর্দি-কাশি সমস্যা রয়েছে তারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে যদি হাতের চেটোতে বা পায়ের তলায় তেল মালিশ করেন তাহলে কিন্তু খুবই কাজে দিতে পারে।

এমন কি যদি আপনার শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলেও হাতে করে একটু সরষের তেল নাকের মধ্যে দিলে অনেকটাই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে যেহেতু এই তেল শরীর গরম করে দেয়, তাই এটা গরম কালে ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এই তেল শরীরে গরমকালে যদি লাগান সেক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া সহ অত্যন্ত বেশি পরিমাণে ঘাম হতে পারে। আর হ্যাঁ শিশু শরীরে সরষের তেল কিন্তু কোন রকমের ভেজাল নয় একেবারে ঘানি ভাঙা খাটি সরষের তেল লাগানোর চেষ্টা করবেন।

২) আলমন্ড অয়েল বা বাদাম তেল: এই তেলটা ও খুব সহজে আপনারা শীতকালে মাসাজ করতে পারেন। ভিটামিন ই থেকে শুরু করে অনেক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে থাকে। বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এই তেল শিশু শরীরে মালিশ করলে তাদের ত্বক অত্যন্ত নরম আর উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তবে অবশ্যই ১০০ শতাংশ পিওর আলমন্ড অয়েল ম্যাসেজ করবেন। তবে কোন রকমের জ্বালাপোড়া বা এলার্জি বেরিয়ে গেলে কিন্তু আপনারা এই তেলের ব্যবহার করবেন না।

৩) অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল কিন্তু মায়েদের কাছে একটি অত্যন্ত প্রিয় তেল। যতই নিত্যনতুন তেল আসুক না কেন অলিভ অয়েল কিন্তু মানুষের মনে একপ্রকার আলাদাই জায়গা করে রয়েছে। অলিভ অয়েলের মধ্যে থাকে ভিটামিন এ,ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই তেল মালিশ করলে আপনার শিশুর ত্বক খুবই উজ্জ্বল এবং মোলায়েম হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ আপনার শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের বেশি না হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু অলিভ অয়েল দিয়ে মাসাজ না করাই ভালো। পাশাপাশি যদি আপনার শিশুর ত্বক খুব শুষ্ক প্রকৃতি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রেও এই তেল তার শরীরের জন্য পারফেক্ট নয়। সবশেষে বলবো আপনারা কিন্তু অবশ্যই নামকরা যেকোনো ব্র্যান্ডের পিওর অলিভ অয়েল মালিশ করার চেষ্টা করবেন।

গ্রীষ্মকালে শিশুদের ত্বকে তেল মালিশ করার সঠিক পদ্ধতি: গ্রীষ্মকালে যে কোন তেলই শিশু শরীরে মালিশ করা হোক না কেন মূলত সেটা কিন্তু খুবই হালকা ওজনের হতে হবে। অবশ্যই আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে গরমকালে শিশুর শরীরে তেল মালিশ করার পরে তা যেন একেবারেই চিটচিটে বা অতিরিক্ত বেশি তৈলাক্ত না হয়ে যায়। কারণ অতিরিক্ত পরিমাণ চিটচিট করলে কিন্তু ঘাম বেশি হয়ে যাবে। সুতরাং আপনারা যে তেল ই মানুষ করুন না কেন সেটাকে কিন্তু অবশ্যই খুবই হালকা ওজনের হতে হবে।

১) নারকেল তেল: গরমকালে আপনারা শিশুর শরীরে যে সমস্ত তেল ব্যবহার করতে পারেন তাদের মধ্যে সর্বপ্রথমেই আমরা বলতে পারি নারকেল তেলের কথা। এই সময় শিশুর ত্বকে কিন্তু ইনফেকশনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে তাই নারকেলের মতন হালকা তেল খুবই কার্যকরী। এর মধ্যে নানান ধরনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে। নারকেল তেল খুবই হালকা এবং ঠাণ্ডা প্রকৃতির হয় যার ফলস্বরূপ শিশুর ত্বকে সহজেই মিশে যায়। আপনারা অবশ্যই যে কোন ব্রান্ডের দামি নারকেল তেল ব্যবহার করবেন।

২) তিলের তেল: এই তেলটির মধ্যে কিন্তু অনেক গুণ রয়েছে যা অনেকেই জানেন না। বেবিদের মালিশের জন্য এই তেল কিন্তু খুবই ভালো।

এর মধ্যে এমন কিছু আরামদায়ক উপাদান রয়েছে যা বাচ্চাদের ত্বককে অনেক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই খুব সহজেই আপনারা তিলের তেল কিন্তু বাচ্চাদের ত্বকে মাসাজ করতে পারেন।

Back to top button