নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, দিন শেষে সরকারের সবকিছুর দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আসবে। যারা এখন তাঁর সঙ্গে আছেন, বিপদের সময় তাঁরা পাশে থাকবেন না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমেদ বলেন, কয়েক মাস ধরে তাঁরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এসব কথা তাঁদের নিজেদের জন্য নয়; অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা চান দেশ সঠিক পথে চলুক। প্রতিটি দপ্তর ও পদের জন্য নিয়ম থাকা জরুরি। তাঁর মতে, কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কোনো দেশ এগোতে পারে না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার আসার পর জেলা অফিস, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গা থেকে সরকারি দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন স্থানের দখল নেওয়া এবং নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অলি আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের কাজ সরকারকে সঠিক পথে রাখা। তাঁর দাবি, সরকার পরামর্শ না শুনলে ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না শোনার পর বিএনপি সরকারকে রাতে জেগে আইন পাস করতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সেই পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা না করার আহ্বান জানান।
সরকারকে ভালো ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক—এটাই তাঁদের কাম্য।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।