নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে। বিভাগীয় সাধারণ বোর্ডগুলোর প্রতিটিতেই তাঁদের সাফল্যের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি।
অংশগ্রহণ ও ফলাফলে এগিয়ে ছাত্রীরা
সারাদেশে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৯ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন এবং ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন।
ফলাফলে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন এবং ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন।
সাধারণ ৯ বোর্ডেই এগিয়ে ছাত্রীরা
বরিশাল বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ বোর্ডে ২৬ হাজার ৭৫৫ জন ছাত্রের মধ্যে ৯ হাজার ৪৬৫ জন এবং ৩১ হাজার ১৫৭ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৬ হাজার ৫০৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
রাজশাহী বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। ৭১ হাজার ৪২৮ জন ছাত্রের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৮৩ জন এবং ৬৫ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রীর মধ্যে ৩৪ হাজার ৮৯১ জন পাস করেছেন। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।
ঢাকা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৫ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮১ হাজার ৮৩৯ জন। ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ২ হাজার ৯১ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ছাত্রীদের ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৪১ হাজার ৬৬৪ জন ছাত্রের মধ্যে ২০ হাজার ৩৪৪ জন এবং ৫৪ হাজার ৬৭১ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৯ হাজার ৮২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ময়মনসিংহ বোর্ডে ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে ১৫ হাজার ৬৪৭ জন পাস করেছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে ২০ হাজার ৭০৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন; তাঁদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সিলেট বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্রের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৬ জন এবং ৪২ হাজার ৯৫৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ২২ হাজার ৫০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বোর্ডে মোট পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ।
দিনাজপুর বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৫৩ হাজার ৫০৮ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২২ হাজার ১০৬ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ; ৫৮ হাজার ২৭৯ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৯ হাজার ২৯২ জন। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
কুমিল্লা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ, ছাত্রদের ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রের মধ্যে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন এবং ৫৫ হাজার ৪৬৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৮ হাজার ৪১৫ জন পাস করেছেন। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
যশোর বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ, ছাত্রদের ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০২ জন এবং ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৯ হাজার ১৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও এগিয়ে ছাত্রীরা
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ছাত্রীদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, ছাত্রদের ৫৮ দশমিক ১০ শতাংশ। এ বোর্ডে ৫০ হাজার ৭৪ জন ছাত্রের মধ্যে ২৯ হাজার ২৬৯ জন এবং ৩৮ হাজার ৯৪৭ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৫ হাজার ২৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ৭৪ হাজার ৮৪ জন ছাত্রের মধ্যে ৩৩ হাজার ৯৯ জন এবং ২৮ হাজার ৮৬৩ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৯৬ জন পাস করেছেন। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
অনুপস্থিত ছিলেন ৩৯ হাজার ৬৫১ জন
এ বছর পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন মোট ৩৯ হাজার ৬৫১ জন। সাধারণ ৯টি বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা ২৯ হাজার ৭৭৫। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় ৩ হাজার ৭৪৭, রাজশাহীতে ৪ হাজার ৫৮০, কুমিল্লায় ২ হাজার ৯০১, যশোরে ৪ হাজার ৭১৯, চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৫৪৪, বরিশালে ২ হাজার ৭৩০, সিলেটে ১ হাজার ৬২, দিনাজপুরে ৩ হাজার ৭০৪ এবং ময়মনসিংহে ২ হাজার ৭৪৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ১৫০ জন—ছাত্র ১ হাজার ৯৮১ এবং ছাত্রী ২ হাজার ১৬৯ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৭২৪ জন; তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ৪৭ এবং ছাত্রী ১ হাজার ৬৭৭ জন। সারাদেশে অনুপস্থিতদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৪৮৩ এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ১৬৮ জন।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর ওই বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন।