নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
বন্ধুর ডাকে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। এরপর আর ফেরেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে বার্তা পাঠিয়ে তিনি লেখেন, ‘মা, আসছি।’ পরে পরিবারের কেউ আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বুধবার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর সারা দিন মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনেছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তাহসিফের এক জুনিয়র বন্ধু বাসার নিচে এসে তাঁকে ডাকেন। মাকে কথা বলে ফিরে আসার কথা জানিয়ে নিচে যান তিনি।
এনায়েতুল করিম জানান, তাহসিফের মা একাধিকবার ফোন করেও ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বুধবার বিকেলে ছেলের খোঁজে তুরাগ থানায় যান তিনি। পুলিশ তাঁকে চিন্তা না করতে বলে। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান ফোন করে নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান।
তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তাহসিফের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর বাবা বলেন, ওই এলাকায় ছেলের সাধারণত যাতায়াত ছিল না।
ছেলের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে মনে করেন না জানিয়ে এনায়েতুল করিম বলেন, “সে তো মায়ের সঙ্গেই ছিল। কেনাকাটা করল, ফুরফুরে মেজাজে ছিল।” তাহসিফ কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে ছেলে মাঝে মাঝে অজানা কারণে ভয় লাগার কথা বলতেন।
এনায়েতুল জানান, ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ’ দেখিয়ে তাহসিফকে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করেন। তাঁর বাবা বলেন, তাহসিফ ভদ্র ও মিশুক ছিলেন এবং সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল।
নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে এনায়েতুল বলেন, তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে ছেলের খোঁজ করেছেন। দাফনের পর মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তদন্তের মাধ্যমে সরকার সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের শনাক্ত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নৌ-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া ফোন ও ঘড়ি দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।