নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
দেশের ইলিশ অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরার ওপর টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন থাকা ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের আশা, পর্যাপ্ত ইলিশ পেলে বিগত দিনের ধারদেনা শোধ করতে পারবেন। মৎস্য বিভাগও নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা করছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় কিছু অসাধু জেলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত মাছ নাও পেতে পারেন।
ভোলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে—অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে—নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। এ সময়ে ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা, কেনাবেচা, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে জেলেপাড়াগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর, ভোলারখালসহ মেঘনা নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় জেলেদের জাল ও ট্রলার প্রস্তুত করতে দেখা যায়। জেলে মো. জাকির, মো. সাত্তার, মোস্তফা মাঝি ও নাগর মাঝি বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে তাঁরা জাল ও ট্রলার তীরে তুলে রেখেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার নদীতে যাবেন। কর্মহীন থাকায় তাঁদের ধারদেনা হয়েছে। বেশি ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পেলে সেই দেনা শোধ করতে পারবেন বলে আশা তাঁদের।
একই এলাকার জেলে মো. রফিক, কাঞ্চন ও ইলিয়াসের অভিযোগ, তাঁরা নদীতে না গেলেও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অসাধু জেলেরা দিনরাত মা ইলিশ ধরেছেন। তাঁদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা মূলত তাঁদের মতো দরিদ্র জেলেদের জন্যই কার্যকর হয়েছে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সীমিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরকারি সরঞ্জাম না থাকা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন তাঁরা। জেলেদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ শিকারের ঘটনা বিক্ষিপ্ত। তাঁর আশা, নিষেধাজ্ঞা সফল হওয়ায় মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেদের মুখে হাসি ফুটবে। ইলিশকে দেশের ঐতিহ্য উল্লেখ করে তা রক্ষায় সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন। নিষেধাজ্ঞার ২১ দিনে প্রায় ২০০ অসাধু জেলেকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ, জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়।