নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির করা অনুরোধের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিলটি পাস হয়।
মিসরের পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন চেয়ে পার্লামেন্টে লিখিত আবেদন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সিসি। পরে বিলটি উত্থাপন করা হলে অধিকাংশ আইনপ্রণেতা এর পক্ষে ভোট দেন।
সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায়
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সহায়তার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সহায়তার আওতায় সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বিলটি নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার আলোচনা শেষে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
পার্লামেন্টের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদনটি পাস হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় দেশটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা পেলেন প্রেসিডেন্ট সিসি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
মিসরের পার্লামেন্ট জানিয়েছে, আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মিসর ও আরব বিশ্বের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন আইনপ্রণেতারা। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা অংশ নেন।
পার্লামেন্টের এই অনুমোদন গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকের সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২৫ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট সিসির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পার্লামেন্ট স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে তৃতীয় দফার রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সেনা পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা নেই
সৌদি আরবকে হুথি হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে মিসর ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে পার্লামেন্টের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এমনকি মিসরীয় সেনা মোতায়েন করা হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মিসরের পার্লামেন্টের এই অনুমোদন এলো।