নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
দীর্ঘ প্রায় এক বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরের পর রোববার (২৫ অক্টোবর) আবারও ভেনেজুয়েলায় দেখা গেছে মাচাদোকে। গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে সুইডেনে যান এবং সেখানে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
মাদুরো সরকারের বিরোধিতায় মাচাদো
ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন মাচাদো। দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বে থাকা এই রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরোর সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও আলোচনায় আসে। একপর্যায়ে তাঁকে আত্মগোপনে যেতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষমতার সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির ক্ষমতার পরিবর্তন এবং মাদুরো সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ঘটনার পর মাচাদোও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন না পাওয়ায় তিনি সেই দায়িত্ব পাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, মাচাদো তাঁর নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পকে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায় করতে পারেননি। এর পরিবর্তে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
মাচাদোর দেশে ফেরার সময়ও ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দেশটির ক্ষমতার কাঠামোতে তাঁর অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
একদিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিরোধী রাজনীতিকদের তৎপরতা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির তেলশিল্প ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর মাচাদোর দেশে ফেরা তাই শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়; বরং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ক্ষমতার সমীকরণে এর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।