নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
সংবিধান সংস্কারের নামে সরকার জাতীয় সংসদে অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, এ প্রক্রিয়া জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। সরকারের উচিত বেআইনি পথ থেকে ফিরে এসে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন নতুন চিন্তাভাবনা সামনে আনছে। স্পিকারকে কেয়ারটেকার সরকারপ্রধান বা অন্য কোনো পদে বসানোর মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা জুলাই জাতীয় সনদের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গণভোট ও জাতীয় ভোটের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর প্রায় ১২ দিন পর ২৫ নভেম্বর গণভোটের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, চারটি প্রশ্নের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুমোদিত হয়েছে এবং বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টগুলোও গণভোটে নাকচ হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশে নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। অন্য কোনো ফোরাম বা বিশেষ কমিটির মাধ্যমে এ কাজ পরিচালনা করা জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলকে দায়ী করে সরকার নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে পারে না। বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সরকারের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে সহযোগিতা করা হবে না বলে স্পষ্ট করেন জামায়াতের এই নেতা।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। তাঁর মতে, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য নতুন কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই; সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই এ কাজ সম্পন্ন করা উচিত।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সনদে স্বাক্ষরের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকার গঠিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রপতির আদেশের একটি অংশের সুবিধা গ্রহণ করলেও অন্য অংশ বাস্তবায়নে আপত্তি জানাচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি নিজস্ব অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।