নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান ফারজানা। এ ঘটনায় তিনি নারী নির্যাতনের মামলা করেন। পরে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আরিফুল।
আরিফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমুল প্রথমে বেকার ছিলেন। পরে চাকরি পাওয়ার পর তাঁর অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফারজানার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল বলে জানান আরিফুল। তখন তাঁর কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। রাতে খাওয়ার জন্য ফারজানা চিপস ও কোমল পানীয়ও কিনেছিলেন। তবে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
আরিফুল আরও জানান, ঘটনার আগের দিন বিকেলে নাজমুলের দুলাভাই তাঁকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হলেও পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া বাকি।
ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।