
নিজস্ব প্রতিবেদক। বর্তমান নিউজ
দুই মেয়ের পর একমাত্র ছেলে আনোয়ার হককে ঘিরেই ছিল বৃদ্ধ বাবা বাবর আলীর শেষ বয়সের সব স্বপ্ন। কিছুদিন আগে স্নাতকোত্তর (এমএ) পাস করে ঢাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী আনোয়ার। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশেহারা ৭০ বছর বয়সী বাবা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হন আনোয়ার হক। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবর আলী।
মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করেন বাবর আলী। এরপর পানের বরজে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় জানতে পারেন, নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র ছেলে মারা গেছেন। খবরটি শোনার পর যেন মুহূর্তেই সবকিছু থমকে যায় তাঁর। যে ছেলে ছিল শেষ বয়সের ভরসা, সেই ছেলেই আর নেই।
ছেলের মরদেহ নিতে বেলা ১১টার দিকে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় পৌঁছান বাবর আলী। সেখানে একমাত্র ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর শোক আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ।
বাবর আলী জানান, দুই মেয়ের পর আনোয়ারই ছিলেন তাঁর একমাত্র ছেলে। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, ছেলে একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেবে, শেষ বয়সে হবে তাঁর ভরসা। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল সেই স্বপ্ন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আনোয়ার হকও রয়েছেন।