নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে রেলওয়ের জমির অবৈধ দখল ঠেকাতে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুটি ছোট বগি দিয়েও এ রুটে ট্রেন চালু করা সম্ভব। এতে রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।
সভায় ইউএনও মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, ফুলগাজী ও পরশুরামে রেলওয়ের জমি দখল করে বস্তি ও মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এসব সম্পত্তি রক্ষায় দুটি ছোট বগি দিয়েও ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন চালু করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন।
প্রস্তাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম। একই সঙ্গে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তির ২৫ ফুটের মধ্যে কোনো জমি লিজ দেওয়া যাবে না। রেললাইনের পাশের অধিকাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। যাঁরা লিজ নিয়ে খাজনা দেননি এবং যাঁদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় ফেনী সরকারি কলেজের পুরোনো লাল দালান সংস্কার, দাগনভূঞার দাদনা খাল পুনঃখননের অগ্রগতি, ড্রাগ লাইসেন্স ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম এবং শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়েও আলোচনা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মু. শিবলী নোমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৯২৯ সালে চালু হওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথে একসময় আটটি স্টেশন ছিল। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় রেলপথটির বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জমি ও স্টেশন এলাকার অবকাঠামো বেদখল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।