
শেরপুর প্রতিনিধি। মো. বিল্লাল হোসেন।ববর্তমান নিউজ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নে জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল পরিবর্তন করে বয়স কম দেখিয়ে গ্রামপুলিশের চাকরিতে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক গ্রামপুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নের গ্রামপুলিশদের সাবেক কমান্ডার (দফাদার) মো. সহিজ উদ্দিন।
অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেনের একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ১৯৫৮ উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিতে বহাল থাকার উদ্দেশ্যে ১৯৮১ সাল উল্লেখ করে আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন তিনি। ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ইউনিয়নের অন্য গ্রামপুলিশদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গৌরীপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশদের কমান্ডার মো. সহিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার সুবাদে তোফাজ্জল হোসেন চাকরিতে বহাল রয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম পলাশ বলেন, আগের জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়সের তথ্যে ভুল থাকায় তা সংশোধন করে নতুন পরিচয়পত্র দাখিল করেছেন তোফাজ্জল হোসেন। তদন্তে সেটি ভুয়া প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলতে বলেন।
অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিক তথ্য, নিয়োগের সময় বয়স এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাবেক গ্রামপুলিশ কমান্ডার মো. সহিজ উদ্দিন।