মোঃবিল্লালহোসেন।শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কথিত অভিযোগকারী কৃষকরা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁরা করেননি এবং অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে ডাকযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। অভিযোগপত্রে কয়েকজন কৃষকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে নামেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরহাদ হোসেন। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগপত্রে অভিযোগকারী হিসেবে নাম উল্লেখ থাকা কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের কয়েকজন অভিযোগ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ কোথাও পাঠাননি এবং অভিযোগের বিষয়েও অবগত ছিলেন না। পরে তাঁরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনের কাছে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেন।
কথিত অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে কৃষক মুকুল মিয়া, জরাকুড়া গ্রামের সহিজ উদ্দিনের ছেলে কৃষক আব্দুল হালিম, একই গ্রামের আইন উদ্দিনের ছেলে সবুজ মিয়া, কোনগাঁও গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে রুবেল মিয়া এবং বালিয়াচণ্ডী গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে জৈয়মত আলীসহ আরও কয়েকজন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, কৃষি উপকরণ হিসেবে সার ও বীজের আবেদন করে না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের অভিযোগ করে থাকতে পারে। তবে এ ধারণার পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া কৃষি প্রণোদনা বিতরণে মাঠপর্যায়ের একজন কর্মীর এককভাবে দুর্নীতি করার সুযোগ কতটুকু রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বরাদ্দ ও বিতরণপ্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পেছন থেকে কেউ কলকাঠি নাড়ছেন। প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে কারও দুর্নীতি করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের সত্যতা, অভিযোগপত্রে কারা স্বাক্ষর করেছেন এবং কীভাবে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের মতে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হলে বিষয়টি নিয়ে চলমান বিভ্রান্তি দূর হবে।