নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘিরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাংবাদিক সামিদুল ইসলামকে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলকভাবে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় তিন মাদক কারবারির সঙ্গে নবীনুল নামে এক যুবককে আটক করেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। এ সময় এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে নবীনুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ সদস্য মুকু রায় (২১) ওই রাতেই চিরিরবন্দর থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে আইপি চ্যানেল কিউ টিভি বাংলার চিরিরবন্দর প্রতিনিধি সাংবাদিক সামিদুল ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, নবীনুল স্থানীয় মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাঁদের অভিযোগ, গ্রাম পুলিশ সদস্য রাজুর মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আগে নবীনুল ও সামিদুল ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য আসামি ধরতে গিয়ে সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা রাখবেন কেন? এ বিষয়েও তাঁরা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, ১২ অক্টোবর চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটকের খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁদের নিয়ে আসার সময় সামিদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় নবীনুল নামে এক আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ওসি আরও জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।