
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি উঠেছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।
তবে অভিযোগে আওয়ামিলীগ এর এমপি মৃনাল কান্তি দাস এর আস্থাভাজন অভিযোগ ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনায় নেয়ামুল হক নয়নের নাম উঠে এসেছে।
তাঁর সাংবাদিক পরিচয়, ব্যবহৃত পরিচয়পত্র, গজারিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করে অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য-প্রমাণ পাওয়া না গেলে সেগুলোকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সাংবাদিকতার পরিচয় কি প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার?
সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, কাউকে চাপে রাখা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না; বরং পেশাটির প্রতি মানুষের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ কারণে নেয়ামুল হক নয়নের সাংবাদিকতার পরিচয়, পরিচয়পত্রের যথার্থতা এবং প্রেসক্লাবের পদ-পদবির প্রাসঙ্গিক নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি অর্থ দাবির অভিযোগে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী, সাক্ষী বা প্রামাণ্য নথি থাকলে তা তদন্তের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে।
অর্থ দাবির অভিযোগে প্রয়োজন তথ্য-প্রমাণ
স্থানীয় পর্যায়ে অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাখ্যা যাচাই করা জরুরি। তবে আইন অপরাধী কে শাস্তি দেয় নিরপরাধী কে নয়।
তবে এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন, অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয় নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ ও দৃশ্যমান জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বক্তব্য গ্রহণের দাবি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, অন্যদিকে তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান ও অবস্থানও বিবেচনায় রাখতে হবে এটাই আইন ও নিয়ম।
এ বিষয়ে নেয়ামুল হক নয়নের বক্তব্য কোনো বক্তব্য দেননি। দল ও ধর্ম যার যার দেশ মানবতা সবার। সাংবাদিক জনগণ ও দেশের জন্য নিরপেক্ষ থাকবে এটাই সচেতন মহল এর প্রত্যাশা।
জনস্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের পদ-পদবি যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা অন্যের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টির মাধ্যম না হয় এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
গজারিয়ার আলোচিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে সচেতন মহল ও সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
অভিযোগ নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই হোক সিদ্ধান্ত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক জনস্বার্থের অগ্রাধিকার।