নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
কিশোরীদের স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, মাসিককালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা: আজকের যত্ন, আগামীর সুস্থতা’ শীর্ষক এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সদর উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশ নেন।
কর্মশালায় কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইম্পেরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ সেলিনা এ চৌধুরী।
কর্মশালা শেষে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এসব মেশিনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই সহজে স্যানিটারি প্যাড সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানান আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইম্পেরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ সেলিনা এ চৌধুরী, চাইল্ড রাইটস অফিসার ও পিভিএইচপি প্রকল্পের নাসরিন আক্তার, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাসুদা আক্তার, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিনসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কিশোরীদের সুস্থতার সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা সরাসরি সম্পর্কিত। নিরাপদ স্যানিটেশন নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও কুসংস্কার দূর করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কিশোরীরা যেন মাসিককালীন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত না থাকে বা অস্বস্তিতে না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং স্যানিটারি প্যাডের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একজন কিশোরী সুস্থ থাকলে তার পড়াশোনা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ জীবনও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যায়। স্বাস্থ্যগত কারণে কোনো শিক্ষার্থী যাতে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য Climate Resilient Campus Initiative-এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সঠিক ধারণা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় সময়ে স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমে সমস্যার মুখোমুখি হয়।
তিনি বলেন, কর্মশালায় অংশ নেওয়া ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দেবেন। পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বক্তারা বলেন, কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে তাদের শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস, ভবিষ্যৎ কর্মজীবন এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়ন জড়িত। তাই বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে মাসিককালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং স্বাস্থ্যগত কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হারও কমানো সম্ভব হবে।