রাজধানীর উত্তরায় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জিম্মি রেখে তিন ব্যাংক হিসাব থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা আদায় এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ বাবুসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের (৩৫) বোন মোছা. চম্পা বেগম উত্তরা পূর্ব থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন—সাকিব হোসাইন (২৮), আনোয়ার হোসেন, হানিফ (২১) ও ইমরান ফরাজী (২৬)। তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে ওই দিন রিমান্ড শুনানি হয়নি।
মামলার এজাহারে চম্পা বেগম অভিযোগ করেন, ৫ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে তার ভাই শরিফুল বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাকে উত্তরার নবাব হাবিবুল্লাহ কলেজের সামনে থেকে অপহরণ করে ৬ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডের একটি ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, শরিফুলকে মুক্তি দিতে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে নেক্সাস পে অ্যাপের মাধ্যমে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট সাড়ে ১১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরা পূর্ব থানা ও এসআরবিকে বিষয়টি জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শরিফুলকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সাগর আহমেদ বাবুসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, এসআরবি গ্রেপ্তার চারজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখে রিমান্ড শুনানি হবে।