
মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের অভাবে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু দীর্ঘ ৫৫ বছরেও তাদের সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।
উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেফলাই জগদীশ মাস্টারের বাড়ি থেকে কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও রিকশার গ্যারেজ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সরু ও কাঁচা রাস্তা রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি বর্তমানে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ পথে ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, বাকাকুড়া, ভালুকা ও ফুলহাড়ি গ্রামের শত শত মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম মাধ্যম এই রাস্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা সরু ও কাঁচা হওয়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে ওঠে। কাদা ও পানিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। কাদামাটি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হয়।
ভালুকা এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ডেফলাই গ্রামের সমাজসেবক আল আমীন তালুকদারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকেই রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের দাবি জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে এবং উন্নয়নের আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু ৫৫ বছরেও রাস্তাটির উন্নয়ন হয়নি।
নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুকুনুজ্জামান বলেন, রাস্তাটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অন্তো বল জানান, রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করা হবে।