নিজস্ব প্রতিবেদক | আড়াইহাজার
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারপাড়া গ্রামে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি ও সালিশ-বাণিজ্য নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমারপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত (৩৮), পিতা—নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে নিজ বাড়িতে মদ তৈরি, বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং মাদক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া এলাকায় জুয়া ও মাদককেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হয়ে তরুণ সমাজসহ পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ৫ তারিখের পর কুমারপাড়া গ্রামের নজরুল, পিতা—আব্দুর রব মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিরোধ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
সালিশের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধের মীমাংসায় সালিশকে কেন্দ্র করেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মোটা অঙ্কের টাকা দিতে সক্ষম ব্যক্তিদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অর্থের বিনিময়ে এক পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
অভিযোগে আতাবুর (৪০), পিতা—গিয়াস উদ্দিন; শামসুর আলম (৩৫), পিতা—মিতু; গাফফার মাস্টার গাজী আহসানউল্লাহ (৪৯), পিতা—মৃত হাবিবুল্লাহ এবং সাখাওয়াত (৩৮), পিতা—নুরুল আমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
‘এভাবে চলতে থাকলে বাড়বে মাদক-জুয়া’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে কুমারপাড়া এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার দিন দিন বেড়েই চলবে।
তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমে কুমারপাড়া এলাকায় মাদক, জুয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।