
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। কখনো বিদ্যুৎ আসছে, আবার কিছুক্ষণ পরই চলে যাচ্ছে—এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্করা। ঘরে থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।
অন্যদিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা নিয়ে বিপাকে পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষার্থী ও ছোট শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। বিদ্যুৎনির্ভর দোকান, প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ীকে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমার আশাবাদও জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
সাধারণ মানুষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা দ্রুত দূর করে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কথা বিবেচনায় নিয়ে লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন চলে যাবে—এই অনিশ্চয়তার অবসান চান নারায়ণগঞ্জসহ দেশের মানুষ।