
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত, আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার রূপান্তরমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, অবকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো প্রতিটি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী নীতি, দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি ও উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করা। গ্রাম ও শহরের উন্নয়নের বৈষম্য কমিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে আরও শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের চলমান রূপান্তরমূলক কার্যক্রম দেশের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।