বিদ্যুতের তারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে ছিল পাখিটি; স্থানীয় তরুণী জারা ও বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় মিলল নতুন জীবন।
স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া মাস্টারপাড়া গলিতে মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাবা মিজানুর রহমান জুম্মান ও -মেয়ে জারা এবং স্থানীয় এক যুবক ইয়ামিন। বিদ্যুতের মেইন তারে পা আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে থাকা একটি ছোট চড়ুই পাখিকে রাতভর চেষ্টার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে ছোট্ট প্রাণটি।
জানা গেছে, ২৩ জুন ২০২৬ বিকেল প্রায় ৪টার দিকে দেলপাড়া মাস্টারপাড়া গলির একটি বাসার বারান্দা থেকে দেখা যায়, একটি ছোট চড়ুই পাখির পা বিদ্যুতের মেইন তারের সঙ্গে আটকে আছে। প্রায় তিনতলা সমান উচ্চতায় ঝুলে থাকা পাখিটি মুক্ত হওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই নিজেকে ছাড়াতে পারছিল না। সময় যত গড়িয়েছে, ততই পাখিটির অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী তরণী জারা জানান, পাখিটির এমন অসহায় অবস্থা দেখে তিনি নিজেই উদ্ধারে নামেন। নানা উপায়ে চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হতে পারেননি। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি; বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাখিটিকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
রাত ১০টার দিকে তার বাবা মিজানুর রহমান জুম্মান বাসায় ফিরলে পুরো বিষয়টি তাকে জানানো হয়। মেয়ের জারার মুখে ঘটনা শুনে তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েন। এ সময় তাদের প্রচেষ্টা দেখে স্থানীয় এক মুদি ব্যবসায়ীর ছেলে ইয়ামিনও এগিয়ে আসেন। পরে দ্রুত বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করা হয়।
রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিদ্যুতের তারে আটকে থাকা চড়ুই পাখিটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এতে স্বস্তি ফিরে আসে উপস্থিত সবার মাঝে।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। একটি ছোট প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন মানুষের এমন আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ব্যস্ততার এই সময়ে মানুষ যখন অনেক কিছুই পাশ কাটিয়ে যায়, তখন একটি চড়ুই পাখিকে বাঁচাতে রাতভর চেষ্টা নিঃসন্দেহে বড় হৃদয়ের পরিচয়।
পরিবেশ সচেতনরা বলছেন, পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পাখি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ দেখানো আমাদের সবার কর্তব্য।
একটি ছোট প্রাণ বাঁচাতে মানুষের সদিচ্ছা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা কতটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে, ফতুল্লার দেলপাড়ার এই ঘটনাই তার উজ্জ্বল উদাহরণ। পাখি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি সহমর্মী আচরণই পারে আমাদের সমাজকে আরও মানবিক করে তুলতে।