
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নারায়ণগঞ্জেও চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ, অটোরিকশাচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থলে পথচারী, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর এবং ট্রাফিক সদস্যদের মাঝে ঠান্ডা পানি, ওরস্যালাইন ও বিস্কুট বিতরণ করা হয়। প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দিয়ে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
কর্মসূচি চলাকালে দেখা যায়, দুপুরের তীব্র রোদে কর্মব্যস্ত মানুষগুলো স্বস্তির জন্য ছায়া খুঁজছেন। অনেকেই অতিরিক্ত গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এমন সময়ে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সদস্যরা তাদের হাতে ঠান্ডা পানি ও ওরস্যালাইন তুলে দিলে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এক অটোরিকশাচালক বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় থাকতে হয়। এই গরমে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, বারবার পানি পিপাসা লাগে। আজ ঠান্ডা পানি ও খাবার পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। যারা এই আয়োজন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, “আমাদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। গরমে অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ঠান্ডা পানি ও ওরস্যালাইন পেয়ে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।”
নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মো. শফিকুল ইসলাম আরজু বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। চলমান তাপদাহে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের সংকটময় মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, “তীব্র গরমে জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কষ্ট আমাদের চোখে পড়ে। তাদের জন্য সামান্য কিছু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। মানবিক মূল্যবোধ থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ যার যার অবস্থান থেকে অসহায় ও কষ্টে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াক। মানবিকতার এই সংস্কৃতি সমাজকে আরও সুন্দর ও সহমর্মিতাপূর্ণ করে তুলবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. আসলাম মিয়া, মো. জসিম উদ্দিন, মনিরুজ্জামান মনিরসহ নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির অন্যান্য সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা অন্য সংগঠনগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।