বর্তমান নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাকে আংশিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার প্রস্তাব ঘিরে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত না করে একাংশকে সিটি কর্পোরেশনে নেওয়া এবং বাকি অংশকে বাইরে রাখার উদ্যোগ বৈষম্য সৃষ্টি করবে।
রূপগঞ্জবাসীর মতে, রূপগঞ্জ কোনো সাধারণ জনপদ নয়; এটি তাদের আবেগ ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে খণ্ডিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বণ্টনে অসমতা দেখা দেবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি অঞ্চলকে দ্বিখণ্ডিত করলে প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হয় এবং বাজেট বণ্টনে বৈষম্য তৈরি হয়। এতে একাংশ শহুরে সুযোগ-সুবিধা পেলেও অন্য অংশ অবহেলিত থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার পরিপন্থী।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রূপগঞ্জবাসীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিজেদের ভূমি, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও জনগণের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ না হওয়া উদ্বেগজনক।
কিছু নাগরিক ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তারা বলেন, ইসলাম ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। কুরআনের আলোকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা মনে করেন, বৈষম্যমূলক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।
এ প্রেক্ষাপটে সচেতন নাগরিকদের একাংশ দাবি জানিয়েছেন—পুরো রূপগঞ্জকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় উপজেলার ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ নিয়ে রূপগঞ্জজুড়ে আলোচনা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।