
বর্তমান নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট :নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত প্রতারক, হ্যাকার ও কথিত সাংবাদিক খান মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ ওরফে খান মাহমুদ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সদর থানার পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে।
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটায় নগরীর ২ নং রেলগেট এলাকা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে দায়েরকৃত মামলায় জারী কৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা বলে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার
করেন |
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এই খান মাহমুদ বিগত এক বছরের বেশী সময় ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নয়নী রানী সাহা নামের এক শিক্ষানবীশ আইনজীবিকে প্রেমের প্রস্তাবসহ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করার জন্য উত্ত্যক্ত করে আসছিল | এ ঘটনায় বিগত ২ জুলাই ২০২৫ সালে আসামি খান মাহমুদ তৎকালীন বাদীনির দেওভোগ নাগবাড়ীস্থ ভাড়া বাসা থেকে তুলে আনতে গেলে বাদীনির ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল । সে সময় আসামীর পিতা এবং আসামি খান মাহমুদ নিজে ফতুল্লা থানায় মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পায় | কিন্তু থানা থেকে মুক্তি পেয়েও এই খান মাহমুদ একদিনের জন্যও ঐ হিন্দু নারীকে উত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকেনি।
পরবর্তীতে নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগারের বিপরীতে অবস্থিত গুলশান সুপার মার্কেটের সামনে নারী নির্যাতনকারী খান মাহমুদ পুনরায় তার উপর হামলা করে এবং বাদীনিকে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে মার্কেট ও আশেপাশের লোকজন জড়ো হলে সে পালিয়ে যায় | পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীনি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে | আদালতে আসামীর পক্ষে জামিন চাওয়া হলে আদালত তা না মঞ্জুর করে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন |
শহরময় আরো অভিযোগ রযেছে এই খান মাহমুদ কখনো নিজেকে কলামিস্ট,লেখক সাংবাদিক, কবি এবং ইদানীং ফতুলা ৪ আসনের এমপি আল আমিনের লোক এবং নিজেকে এনসিপির একজন নেতা বলে দাবি করে আসছিল । আসলে সে একজন ভবঘুরে, কোন নির্দিষ্ট কর্ম নাই । বিভিন্ন মানুষকে ব্যাংক লোন করে দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ , প্রতারণাসহ কখনো সে নিজেকে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলে প্রচার করে ইত্যাদি কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। এমনকি নারায়ণগঞ্জের সুনামধন্য প্রেসক্লাব নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সে একজন সদস্য এবং কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে থাকে । তাকে যে বা যিনিই এসব কর্ম থেকে, নারীকে উত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করেছে তার নামেই মিথ্যা কল্প কাহিনী সাজিয়ে সামাজিতে যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রিকায় অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ও ব্যতিহীন সংবাদ ছাপিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করতো এবং নানান হুমকি ধামকি প্রদান করত | এমন অপরাধীকে আইন সাজা দিলে ভুক্তভোগী সহ অনেকেই ন্যায় বিচার পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল | উল্লেখা আসামী খান মাহমুদের পারিবাবের সদস্য তথা তার বাবা দাতা সড়ক মোহাম্মদ আজিজ উল্লাহ,বড় ভাই মাসুম বিল্লাহ এবং মাকে তার এসব অপকর্ম সম্পর্কে জানালে তারা এসবের কোন কর্ণপাত না করে উপরন্ত আসামি খান মাহমুদকেই উৎসাহিত করত | তাতে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠত বলে জানিয়েছে দেওভোগ দাতা সড়ক ও পানির ট্যাংকি এলাকার জন সাধারণ ।