
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন হাজীগঞ্জ মুলিবাঁশ মোড় ও সরিষা ভিলা এলাকা এখন যেন এক অঘোষিত অপরাধকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে জায়গাটি এখন “নেশা বাবা” এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দিন-রাত অবাধে মাদক সেবন ও বিক্রি, ছিনতাই, চুরি এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণেই গড়ে উঠেছে একাধিক কিশোর গ্যাং, যারা মাদক পরিবহন, স্পট নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ সংঘটনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এসব কিশোরদের অনেকেই স্কুল-কলেজগামী, কিন্তু মাদকের সহজলভ্যতা ও অপরাধচক্রের প্রভাবে তারা বিপথগামী হয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুলিবাঁশ মোড়, সরিষা ভিলা ও আশপাশের গলিপথগুলোতে প্রকাশ্যেই মাদক সেবন ও লেনদেন চলে। এতে করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্ধ্যার পর বাইরে যেতে দিচ্ছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন তারা। দোকানপাট খোলা রাখতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
এদিকে, একাধিকবার অভিযোগ দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কার্যকর কোনো অভিযান না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাদের মতে, মাঝে মধ্যে টহল দিলেও মূল অপরাধচক্র ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে এলাকায় স্থায়ী পুলিশি নজরদারি, সিসিটিভি স্থাপন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং পুরো এলাকা স্থায়ীভাবে অপরাধপ্রবণ জোনে পরিণত হতে পারে।