
নিজস্ব প্রতিবেদক |নারায়ণগঞ্জ। ০৬ এপ্রিল ২০২৬।
সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সোমবার (৬ এপ্রিল) মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে মেডিস্টার হাসপাতাল ও রেনেসা ল্যাব এবং পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তারিকুল ইসলাম। অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি, র্যাব-১১ ও পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন।
মেডিস্টার হাসপাতাল ও রেনেসা ল্যাব (নবাব সলিমুল্লাহ রোড)
অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে স্বাস্থ্যসেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বিদ্যমান। অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে না, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নার্স ও চিকিৎসা সহায়ক জনবলের ঘাটতি পাওয়া যায়। রোগীদের জন্য নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও সত্যতা পায়।
এসব অনিয়মের কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার (বি বি রোড)
অভিযানে আরও গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে জানা যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখানে কোনো দক্ষ ল্যাব টেকনোলজিস্ট বা স্বীকৃত প্যাথোলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছিল।
এ ধরনের অনিয়ম রোগ নির্ণয়ে ভুল ফলাফল এবং চিকিৎসায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন। এসব অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থ ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে আরও জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সমাজসচেতন ব্যক্তি ডি.এম. মাসুদ বলেন,
“স্বাস্থ্যসেবা কোনো ব্যবসার ক্ষেত্র নয়, এটি মানবজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা। তাই অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
সম্পাদনায়:
ডি.এম. মাসুদ
বিশ্লেষক ও গবেষক, নারায়ণগঞ্জ