বর্তমান নিউজ ডেস্ক :
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ব যেন এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি আর সম্ভাব্য যুদ্ধের শঙ্কা আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার এক বিপজ্জনক মোড়ে ঠেলে দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ইরান হামলার সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে এই স্বস্তি কি স্থায়ী শান্তির পূর্বাভাস, নাকি আসন্ন ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এই বিরতি কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। Islamabad-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রমাণ করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এমন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সমীকরণে এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ১০ দফা প্রস্তাবকে তারা ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে দেখছে। Tehran-এর দাবি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার, Strait of Hormuz-এর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—এসব দীর্ঘদিনের কৌশলগত লক্ষ্য। অপরদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান কিছুটা সতর্ক। তাদের দৃষ্টিতে এটি এখনো একটি আলোচনার ভিত্তি মাত্র, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য Strait of Hormuz এক অনিবার্য ধমনী। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হয়, যা ব্যাহত হলে বৈশ্বিক বাজারে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সাময়িক পিছু হটা কৌশলগত হিসাব-নিকাশেরই অংশ বলে মনে হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই দুই সপ্তাহ কি সত্যিই শান্তির পথ প্রশস্ত করবে? নাকি উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য সময় নিচ্ছে? বিশেষ করে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কিংবা ক্ষতিপূরণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে সমঝোতা অর্জন সহজ হবে না।
আমাদের দৃষ্টিতে, যুদ্ধের দামামা সাময়িকভাবে স্তব্ধ হওয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, আস্থার পরিবেশ এবং সবচেয়ে বড় কথা—ছাড় দেওয়ার মানসিকতা। আলোচনার টেবিলে যদি কৌশলের বদলে সদিচ্ছা প্রাধান্য পায়, তবেই এই উদ্যোগ সফল হতে পারে।
আগামী দুই সপ্তাহ বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক কঠিন পরীক্ষার সময়। কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। আমরা আশা করি, Tehran ও ওয়াশিংটন উভয়েই সংঘাত নয়, সংলাপকেই বেছে নেবে। কারণ শেষ পর্যন্ত, প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা উচিত মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ।
যুদ্ধ নয়—শান্তিই হোক আগামী দিনের একমাত্র পথ।
(সেলিম আহমেদ উপদেষ্টা বর্তমান নিউজ)