বর্তমান নিউজ ডেস্ক :নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
দেশে সরকার পরিবর্তন হয়, নীতির পরিবর্তন হয়—কিন্তু বদলায় না নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন–এর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ভয়াবহ মাদক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি কার্যত মাদকের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদক বেচাকেনা চললেও স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, বাস্তবতায় নীরবতা
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচন এলেই ওয়ার্ডকে ‘মাদকমুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি শোনা যায় জোরেশোরে। কিন্তু ভোটের পর সেই অঙ্গীকার আর বাস্তব রূপ পায় না।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ওয়ার্ডজুড়ে অন্তত ১৫–২০টি স্থানে নিয়মিতভাবে মাদক কেনাবেচা চলছে। পবিত্র রমজান মাসেও এই অবৈধ কারবার বন্ধ হয়নি—যা এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।
সংঘবদ্ধ চক্রের দাপট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া ও নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে দু-একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে গ্রেপ্তারের পরও খুব দ্রুতই একই চক্র আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে
এলাকাবাসীর দাবি, ভ্রাম্যমাণ অভিযান বা বিশেষ বাহিনীর তৎপরতা মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়—ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি।
সচেতন মহলের মতে, এই ওয়ার্ডের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কিশোর-তরুণ ইতোমধ্যে মাদকের সংস্পর্শে চলে গেছে। দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুরো একটি প্রজন্ম বিপথে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে; অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযান
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত
আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের সূত্র ধরে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা
অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে জব্দের উদ্যোগ
স্থানীয়দের মতে, দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগ ছাড়া এই ‘মাদকের স্বর্গরাজ্য’ ভাঙা সম্ভব নয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জোর আহ্বান—
অনতিবিলম্বে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ২০ নম্বর ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই—
আর কতদিন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে