বর্তমান নিউজ ডেস্ক :
বিশেষ প্রতিবেদক।
ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ — ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি আর নেই (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, এই তথ্য তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ঘোষণা নিশ্চিত করেছে।
ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীর পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা আক্রমণ করেন। তিনি তখন নির্বাচন প্রচারে বেরিয়ে ছিলেন। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় আহত হাদি প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাবিদের পরামর্শে এবং পরিবারের সিদ্ধান্তক্রমে গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তার ওপর জটিল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিজের অবস্থার গুরুতরতার কারণে অস্ত্রোপচারকে সময়মতো করতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়।
শরিফ ওসমান হাদি ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, তাঁর মৃত্যু সিঙ্গাপুরের হাসপাতাল এবং ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে একযোগে নিশ্চিত করা হয়।
হাদির মৃত্যুতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তার সমর্থক, ছাত্র সংগঠন ও জনতা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বহু সংগঠন ও নেতারা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে এবং ন্যায়বিচার চেয়ে আওয়াজ তুলেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেস্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং সরকার ওমরহাদির পরিবারকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চ এ সময় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, যদি খুনি গ্রেফতার না হয়, তাহলে সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
শরিফ ওসমান হাদি বাংলাদেশের রাজনীতির এক সক্রিয় ভূমিকা রাখা যুব নেতৃত্বে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন, জনআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং যুবসমাজের মাঝে তার বক্তব্য ও সংগঠনের দাবিগুলি ব্যাপক আলোচিত ছিল।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি-র ইন্তেকালে রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজ স্তরেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যু সমাজ ও রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গভীর ক্ষতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।