নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই ( নেসকো পিএলসি ) অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত এক বিস্ময়কর ঘটনা। পরিচয় বদলে, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে আনুমানিক ২০১০ সালে চাকরিতে ঢুকে আজ কোটি টাকার মালিক—এই খবরই এখন চাঞ্চল্যের কেন্দ্রে।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম গৌরীপাড়ার বাসিন্দা মোঃ নুরুজ্জামান পারভেজ, পিতা মৃত নূর মোহাম্মদ, প্রাথমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ২০১০ সালে পিডিবিতে মিটার রিডার পদে অবৈধভাবে নিয়োগ পান।
সূত্র মতে, তৎকালীন সময়ে বিদ্যুৎ অফিসের একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় পারভেজ নিজের নাম পরিবর্তন করে ভাই তারেক রহমানের এইচএসসি সার্টিফিকেট, ভোটার আইডি ও ছবি ব্যবহার করে নিজেকে ‘তারেক রহমান’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সনদ জমা দেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে এই ভূয়া পরিচয়ে চাকরির পাশাপাশি মিটার রিডিংয়ে ব্যাপক অনিয়ম, রিডিং এডজাস্টমেন্ট, জমাকৃত মিটার পরিবর্তন থেকে নতুন সংযোগ স্থাপনসহ বিভিন্ন কৌশলে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ উপায়ে আয়ের অভিযোগ উঠে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, রিডিং জালিয়াতির বিনিময়ে প্রতিটি সংযোগে অর্থ লেনদেন করেন তিনি, যেখানে মিটারে জমে থাকা ইউনিট নিজের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন মিটার নম্বর বসিয়ে এবং নতুন মিটার দিয়ে প্রতিস্থাপন করেন। নিজেই রিডিং ও বিলিং এর কাজ করেন বলে তার কাছে বিষয়টি আরো সহজ হয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক ছোটখাটো কৌশল অবলম্বন করেন।
এভাবেই তিনি আজ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিভিন্ন নামে এবং বেনামে জমি, বাড়ি, ব্যবসা ও সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তিনি।
একই অফিসে কর্মরত চাচা (মিটার রিডার) ও প্রভাবশালী আত্মীয়দের সহায়তা ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। সাংবাদিকরা বিষয়টি অনুসন্ধানে গেলে তাদেরও অর্থের মাধ্যমে চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারপরেও তার এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক পত্রিকায় সংবাদ প্রচারিত হয়।
সবশেষে, ২০২৪ সালে আউটসোর্সিং নিয়োগের সময়, আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে বহু টাকার বিনিময়ে তারেক রহমান নামে ভুয়া সনদপত্র বাতিল করে তার নিজ নামে ভূয়া সার্টিফিকেট/প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে পারভেজ নামে এবার ড্রাইভার পদে নিয়োগ পান অথচ তাঁর ড্রাইভিংয়ের কোনও অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ নাই।
বলা হচ্ছে, দুর্নীতিবাজ পারভেজের বাবা ও চাচারা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হওয়ায় সেহেতু সে তার বাবা চাচার অগোচরে তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করেন এবং সেটিই কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন পদে ঢুকে পড়েন ড্রাইভারে নিয়োগ পেলেও তিনি কাজ করেন মিটার রিডার হিসাবে।
বিঃদ্রঃ তারেক রহমানের আপন ভাই পারভেজ, যার সার্টিফিকেট ব্যবহার করে এতদিন সে চাকরি করল, কিন্তু ২০২৪ এসে প্রতারক পারভেজ নিজ নামে ভূয়া সার্টিফিকেট তৈরি করে, অতঃপর পারভেজ ও তারেক রহমান দুই ভাই তারা আবাসিক প্রকৌশলীর সঙ্গে বহু অর্থের বিনিময়ে প্রথম টেন্ডারে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করে, পারভেজের হয় কিন্তু তারেক রহমানের হয় না, আবাসিক প্রকৌশলি আশ্বান দেন দ্বিতীয় টেন্ডারে নিয়োগ হয়ে যাবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—এত বড় জালিয়াতি ও দুর্নীতি চললো কীভাবে?
এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য যে গত ২৭-০৫-২০২৫ তারিখে ফুলবাড়ী নেসকাে বিদ্যুত অফিসে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন সহকারী প্রকৌশলী আলেফুর শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়।