বর্তমান নিউজ ডটকম:
নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে বাতাস থমথমে। মোমবাতির কাঁপা আলোয় কেবল একটা মুখ স্পষ্ট—রফিউর রাব্বি। যেন কষ্ট আর লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে তাঁর মুখাবয়ব। আশেপাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে অনেকে—কারও হাতে মোমবাতি, কারও চোখে জল। ১৪৬ মাস হয়ে গেছে, তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নেই। কিন্তু এই শহর যেন আজও ত্বকীর খোঁজে চোখ মেলে রাখে।
তিনি বললেন—“শেখ হাসিনা যদি শামীম ওসমানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, তবে ত্বকীর হত্যাকারীরা এতদিনেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকত না। দুর্বৃত্তরা ছিল, এখনো আছে। পালিয়েছে কেউ কেউ, কিন্তু তাদের ছায়া এখনও শহরের বাতাসে ভেসে বেড়ায়।”
জিয়াউল ইসলাম কাজলের সঞ্চালনায় বক্তৃতা চলছিল একের পর এক—হালিম আজাদ, মাহাবুবুর রহমান মাসুম, শাহেদ কায়েস, তরিকুল সুজন... প্রতিটা কণ্ঠে একটা ধ্বনি—বিচার চাই। কেউ বললেন, “এ বিচার শুধু ত্বকীর না, এ বিচার পুরো দেশের—যেখানে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো হয়ে গেছে রাজনীতি।” কেউ বললেন, “র্যাব যদি তদন্ত করতে না পারে, তাহলে তারা পদত্যাগ করুক।” মঞ্চে যেন শুধু বক্তব্য না, ঘুষাঘুষি করা যন্ত্রণা।
১৪৬টা মাস। প্রতি মাসের ৮ তারিখে একটাই কাজ—আলো জ্বালানো। ত্বকীর জন্য, ত্বকীর মতো হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য ত্বকীর জন্য। এই আলো যেন শহরটাকে জিজ্ঞেস করে, “তোমার বিবেক কি এখনও জেগে আছে?”
একবার আনিসুল হক লিখেছিলেন, “মৃত্যুর পরে কিছু মানুষ বেঁচে থাকে—যাদের মৃত্যু নিয়ে অন্যেরা ঘুমোতে পারে না।” ত্বকী তাদেরই একজন। ১৭ বছরের যে ছেলেটা একদিন স্কুল থেকে ফিরছিল না, সেই ছেলেটা আজও আলো জ্বালায়।
জানেন, আলো জ্বালানোটা প্রতীক? না, শুধু প্রতীক না। এটা একরকম যুদ্ধ। শহরের এক কোণে কিছু মানুষ মোমের আলোয় দাঁড়িয়ে থেকে বলে যাচ্ছেন—আমরা হারাইনি, আমরা হার মানব না।
আপনি কি কখনো ১৪৬ মাস ধরে অপেক্ষা করেছেন, ন্যায়ের আশায়?