1. admin@bartamannews.com : admin :
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গোগনগর কয়লাঘাট হাট নয় যেনো মরন ফাঁদ গ্যাস বন্ধের প্রতিবাদে তিতাস গ্যাস অফিস সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জালকুড়ি এলাকাবাসী জেল-জরিমানা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা যাবে না: না.গঞ্জ জেলা প্রশাসক উচ্চ আদালতে জামিন হওয়ায় গিয়াসউদ্দিনের রিমান্ড শুনানী স্থগিত ভাড়া হবে লিফলেট দেখলে উঠে যান বাসায়, সখ্যতা গড়ে হাতিয়ে নেন স্বর্ণালঙ্কার বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে র‍্যাব মহাপরিচালক ব্যক্তির সঙ্গে র‍্যাবের ভাবমূর্তি নষ্টের সম্পর্ক নেই ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ওয়ার্ডের উদ্বো সংসদে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় শ্রমিক জটিলতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ধর্মমন্ত্রীর বেহাত আইফোন মালয়েশিয়া থেকে উদ্ধার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার তিনি আইনজীবী নন, টাউট

হামলাকারী সন্দেহে টার্মিনালে ধারালো অস্ত্র হাতে ঢুকে প্রতিপক্ষকে পেটাল মেয়রপন্থিরা

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ মে, ২০২৪
  • ২২ বার পঠিত

সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলায় ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি বরিশাল বাস মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি আফতাব হোসেন চালক আলমগীর হোসেনকে চড় দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার জেরে শ্রমিক আন্দোলনে টার্মিনালের এক যুগের নিয়ন্ত্রক আফতাব সেখান থেকে বিতাড়িত হন। ওই শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তখনকার টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামাল হোসেন লিটন মোল্লা। সে সময় আফতাবকে হটিয়ে লিটনই হন টার্মিনালের নিয়ন্ত্রক। দুই বছর পরই দু’দিন আগে আধিপত্য হারানো লিটন আবারও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আলোচনায় এসেছেন। গত ৪ মে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের দু’পক্ষের মধ্যে সহিংসতার অনুঘটক তাঁকেই বলা হচ্ছে। লিটন ছয় বছর আগের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে সহিংসতা করে টার্মিনাল দখলের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতার আগে এবারও এক চালককে মারধরের ইস্যু সামনে আনা হয়েছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে লিটন তাঁর বাহিনী দিয়ে গত শনি ও রোববার বাস টার্মিনাল দখল করে রেখেছিলেন। এ সময় ভাঙচুর হয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়, কমপক্ষে ২০টি বাস ও ৩০টি টেম্পোসহ অসংখ্য কাউন্টার। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষেই ছিল ধারালো অস্ত্রের ঝনঝনানি।

পুরো ঘটনায় লিটন দৃশ্যমান হলেও তাঁর পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ কলকাঠি নাড়ছে বলে ধারণা অনেকের। কারণ লিটনের পক্ষের ওপর ঠিক কারা হামলা চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে অভিযোগের আঙুল উঠছে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহর বিরোধী পক্ষের দিকে। কারণ লিটন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী। তাঁকে ব্যবহার করেই মেয়র খায়েরপন্থিদের বিপাকে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর ১২ জুনের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে ‌খায়ের আবদুল্লাহ। ওই নির্বাচন থেকে তাঁর প্রকাশ্যে বিরোধিতাকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাদিক। তিনি আবুল খায়েরের বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। সিটি নির্বাচনে প্রধান মিত্র পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপির সঙ্গেও খায়ের আবদুল্লাহর বৈরী সম্পর্ক চলছে বলে গুঞ্জন আছে।

মেয়রপন্থি বলে পরিচিত জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি অসীম দেওয়ান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লিটন মোল্লাকে একটি পক্ষ ব্যবহার করেছে। ছোট ঘটনাকে ইস্যু করে শ্রমিক বিক্ষোভ হলেও সংঘর্ষের অংশ নেওয়া বেশির ভাগ ছিল বহিরাগত ও কিশোর। লিটন সাবেক মেয়র সাদিকের লোক। ৪ মের ঘটনায় লিটন মোল্লাকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি কাজী কবির আহমেদের অভিযোগ, শনিবার ঘটনার পর পরই লিটন মোল্লা টার্মিনালে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের পক্ষে বক্তৃতা দিয়ে তাদের আরও উত্তেজিত করে তোলেন। ঘটনার সূত্রপাত করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে।

টেম্পো মালিক সমিতির সম্পাদক মুশফিকুর রহমান দুলাল বলেন, শনিবার সকালে বাস বন্ধ করে দেওয়ার পর যাত্রীদের প্রধান ভরসা ছিল টেম্পো। সন্ধ্যার পরে লিটন মোল্লার নির্দেশে ব্যাপক ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করে টেম্পো চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে লিটন মোল্লাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকেও ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। বিমানবন্দর থানার ওসি মাসুদ আলম চৌধুরী জানান, ৪ তারিখের ভাঙচুরের ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।

টার্মিনালের সর্বশেষ পরিস্থিতি: শনিবার দুপুরে গোলযোগ শুরুর পর টার্মিনাল লিটন মোল্লার অনুসারীদের দখলে চলে যায়। তাদের হামলায় ওইদিন দুপুরেই বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের বাস এবং সন্ধ্যায় টেম্পো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‍্যাব ও ডিবি লাঠিচার্জ করে লিটন অনুসারীদের হটিয়ে দেয়। এরপর থেকে টার্মিনালে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। গতকাল রোববার সকাল থেকে শহরে সীমিত সংখ্যক বাস চলাচল করে। তবে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি কাজী কবিরের নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক তরুণ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্রহাতে ঢুকে পড়ে টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় আগের রাতের হামলাকারী সন্দেহে কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুপুরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বাড়তে থাকে। কাজী কবির বিকেলে জানান, তারা টার্মিনালে অবস্থান করছেন।

তবে ধারালো অস্ত্র হাতে ঢুকে প্রতিপক্ষকে মারধরের প্রবেশের বিষয়টি জানতে চাইলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান ঘটনার সময় টার্মিনালে উপস্থিত নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, আমরা তো টার্মিনালের বাইরে আছি। ভেতরে কী চলছে জানি না। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বর্তমান নিউজ
Theme Customized By Shakil IT Park