দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল এক যাত্রীর হাতে তুলে দিলেন তার হারিয়ে যাওয়া টাকা ভর্তি ব্যাগ! মুহূর্তে ভাইরাল হল ভিডিও।

নিজস্ব প্রতিবেদন :- আমরা পুলিশ অফিসার দের কে দেখলেই একটা নেগেটিভ ভাবনাচিন্তা মনের মধ্যে আঁকড়ে ধরে । কখনো কখনো এমনটা মনে হয় যে এই সমাজে যারা রক্ষক তারাই ভক্ষক এই চিত্র আমরা দেখেছি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিন্তু সবাইকে একই দাঁড়িপাল্লা তে মাপা কি উচিত ? একদমই নয় । কখনো কখনো দৃষ্টান্তমূলক কিছু উদাহরন আমাদের সামনে উঠে আসে যেগুলি হয়তো পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে সেই চিত্র দেখা গেল সম্প্রতি এবার ।

এক পথযাত্রীর ফেলে যাওয়া দাগ কে পুনরায় ফিরিয়ে দিলেন তার হাতে এম রেলপুলিশ । একদম ঠিক শুনেছেন ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লিতে । দিল্লি উত্তর-পশ্চিমে এক বাসিন্দা যার নাম বিজয় কুমার । তিনি গত ৩০ জুন ব্যাংক থেকে এক লক্ষ টাকা তুলে আনেন ।তার সাথে ছিল কিছু খাবার জরুরী কিছু নথিপত্র । প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন ট্রেনের জন্য কিন্তু হঠাৎ করেই ট্রেন চলে আসার দরুন তিনি সেই ব্যাগ স্টেশনে ফেলে দিয়ে চলে যান ।সে ঘটনাটি সম্পূর্ণ রকম ভাবে লক্ষ্য করেন সেখানে উপস্থিত থাকা পুলিশকর্মী যার নাম নরেন্দ্র কুমার ।

ব্যাগটি খুলে তিনি দেখেন শুধুমাত্র টাকাই না, তার সাথে আছে খাবার, ব্যাংকের পাসবুক, চেক বুক, রেশন কার্ড ও আধার কার্ড। এইসব দেখার সাথে সাথেই নরেন্দ্র কুমার সময় নষ্ট না করে তার উচ্চপদস্থ কর্মীদের এই ব্যাপারে জানান। নরেন্দ্র কুমারের বিশ্বাস ছিল যে ব্যাগটির মালিক আবার স্টেশনে ব্যাগটি খোঁজার জন্য আসবেন। তাই তিনি সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ বিজয় কুমার আবার প্ল্যাটফর্মের যান এবং ওখানে সবার কাছে তার ব্যাগ এর ব্যাপারে জানতে চান।

সেঈ মুহূর্তে নরেন্দ্র কুমার ওই প্লাটফর্মে ছিলেন। তিনি ও পুলিশের অন্যান্য কর্মীরা তাকে সেই ব্যাগ এর ব্যাপারে ডিটেলসে জিজ্ঞাসা করেন এবং যখন তাদের মনে হয় বিজয় কুমারই ব্যাগটির আসল মালিক, তখন কিছু আইনি কাজকর্ম করে ব্যাগটি তার হাতে দিয়ে দেওয়া হয়।

এই ভাবেই এক কনস্টেবল এর তৎপরতায় ও তার সততার জন্য একজন খেটে খাওয়া ব্যক্তি তার পরিশ্রমের ফল আবার ফিরে পেতে সমর্থ হন। এই পুরো ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশকর্মী হরেন্দ্র কুমার দিল্লি পুলিশের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন।। ইতিমধ্যে এই ঘটনার দখল করেছে খবরের শিরোনাম ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button