ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়! ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল থেকেই বছরে 40 কোটি টাকা আয় করেন এই যুবক!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-আমরা যে সমস্ত জিনিস গুলো ফেলে দিই সেই সমস্ত জিনিস গুলো দিয়েও যে বছরে 40 কোটি টাকা আয় করা যেতে পারে সেটা হয়তো প্রথম দেখালো হাবিবুর রহমান জুয়েল। কে এই ব্যক্তি? কি তার পরিচয়? কেন এত বেশি পরিচয় তা জানাবো ধীরে ধীরে ।তবে তার আগে আপনাদেরকে জানতে হবে কিসের ব্যবসা করেন ।

আমরা প্রতিনিয়ত প্লাস্টিকের যে সমস্ত জিনিসপত্র গু-লি ব্যবহার করি মূলত বোতল প্লাস্টিকের কন্টেনার ইত্যাদি ব্যবহার করার পর সে গুলোকে বাইরে ফেলে দিই রাস্তাঘাটে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল গু-লি কিন্তু সেগুলো সংগ্রহ করে তৈরি করে বছরে 40 কোটি টাকা আয় করা যেতে পারে সেটা প্রমাণ করে দিলেন এই জুয়েল।

বাবার নির্মাণ এর ব্যবসা ছিল ।ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল ব্যবসা করার তাই সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি পুরনো ঢাকায় ঘোরাফেরা করতে শুরু করেন এবং তিনি লক্ষ্য করলেন যে পুরনো প্লাস্টিকের বোতল গু-লি-কে রপ্তানি করা হয় বিদেশে সেখান থেকে আসে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ।অবশ্য কিছু মেশিনারিজ এবং টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন পড়ে ।তাই বাবার কাছ থেকে 50 লক্ষ টাকা ধার নিয়ে নেমে পড়লেন এই ব্যবসাতে।

জুয়েল বলেন “ভাঙারিদের সঙ্গে ব্যবসা করতে হলে একদম তাঁদের সামনে যেতে হয়,’ ‘আমি সে সময় শহরজুড়ে ভাঙারিদের খুঁজে বের করতাম, সেগুলা ভাঙানোর কাজ করতাম, রপ্তানির জন্য কাগজপত্র গোছানোর কাজ করতাম। সব মিলিয়ে দিনের ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কখন চলে যেত বুঝতেও পারতাম না।’কাজ করতে করতে কাজে হাত পাকতে থাকল হাবিবুর রহমান জুয়েলের।

২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের পেট ফ্লেক্স রপ্তানিকারকদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠলেন তিনি। বললেন, ‘এই ব্যবসাটা খুব সনাতনীভাবে হতো, শিক্ষিত বিক্রেতা ছিলেন না বললেই চলে। কিছু মধ্যস্থতাকারী ছিলেন, তাঁরা নানাভাবে ঠকাতেন। আমি নিজে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতাম, চাহিদামাফিক পণ্য এনে দিতাম। এভাবে খুব দ্রুত আমি ওপরের দিকে উঠে যাই।’

কিন্তু 2016 সালে তার ব্যবসার অবনতি ঘটল যে কোম্পানিতে অর্থাৎ চীনের যে কোম্পানিতে সরাসরি জানিয়ে দিল যে তারা এই জিনিস আর নেবে না কারণ তারা দেশীয়ভাবে সে জিনিস উৎপাদন করবে দেশের মধ্যে তখন এক টেকনিশিয়ান বন্ধুর বুদ্ধি দেন বাংলাদেশের মাটিতে তিন বিঘা জমির উপর তৈরি করলেন মুনলাইট ফ্লেক্স কোম্পানি।প্রায় দুই বিঘার ওপরে মুনলাইট ফ্লেক্স অ্যান্ড স্ট্রাপ ইন্ডাস্ট্রি। তিনটা লাইনে তৈরি হচ্ছে স্ট্রাপ।

কারখানার এক পাশে মিহিদানা করা হচ্ছে প্রাথমিকভাবে চূর্ণ করা প্লাস্টিক। সেই চূর্ণই আসছে মেশিনে গলে আবার নতুন করে স্ট্রাপ হতে। ঢাকার মেরাদিয়ার আরেকটা আলাদা কারখানায় প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয় ফ্লেক্স। বড় মাঠের মতো জায়গায় জমিয়ে রাখা হয় কুড়িয়ে আনা বোতল। সেই বোতল ভাঙা হয় সেখানে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button