তিন বছরের কোলের শিশুকে ছেড়ে, কঠোর পরিশ্রমে প্রথম চান্সেই IAS অফিসার হলেন তরুনী!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- পরিশ্রমের বিকল্প কোন পথ হয় না । এ কথা আমরা প্রত্যেকে প্রবাদ বাক্য তো শুনেছি । অর্থাৎ এমনটা বলা হয়ে থাকে যে যদি আপনি পরিশ্রম করেন তাহলে কোনদিন সেটি বিফলে যায়না । তার ফল অবশ্যই পাওয়া যায় । এবার তার বাস্তব রূপ দেখা গেলো । আড়াই বছরের এক শিশু কন্যাকে এক বছরের জন্য বাড়িতে একা রেখে শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছে পূরণে তাগিদে প্রথমবারের পরীক্ষাতে IAS হয়ে দেখালেন বিহারের বাসিন্দা অরুনিমা সিং। আমরা এমনটা মনে করি যে মেয়েরা বাড়ির সব কাজ রান্না ঘর সামলানোর জন্য জন্ম নিয়েছে ।

কিন্তু তারাও যে স্বপ্ন পূরণে তাগিদে নিজেদেরকে খোলা আকাশে মধ্যে মেলে ধরতে চায় সে কথা হয়তো আমরা অনেকেই বুঝি না । কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম আমরা যত উন্নত হয়েছে ততই পাল্টেছে আমাদের মানসিকতা । এবং সে পাল্টানো মানসিকতার শ-ক্তিতেই বর্তমান সমাজে মেয়েরা সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন । তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হল অরুনিমা সিং । অনুপমা সিং বিহারের রাজধানী পাটনার বাসিন্দা।

তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা পাটনা থেকে শেষ করেছেন। অনুপমা একজন অবসরপ্রাপ্ত এম আর এর মেয়ে এবং তার মা অঙ্গনওয়াড়ি তে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই অনুপমা লেখাপড়ায় খুবই মেধাবী ছিলেন। তিনি দ্বাদশ পড়ে এমবিবিএস প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং এই পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি যথেষ্ট মেধাবী । একের পর এক পরীক্ষা অর্থাৎ কঠিন সমস্ত পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ভাল ফলাফল করেছে । কিন্তু তিনি একসময় উপলব্ধি করলেন যে সরকারি চাকরি করতে করতে এমন ছোট-বড় অনেক স-ম-স্যার ধরন রয়েছে যে গু-লি সমাধান করা খুব মুশকিল ।

এবং এগুলোকে সমাধান করার জন্য সিস্টেমের মধ্যে তাকে প্রবেশ করতে হবে । তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেবেন । কিন্তু ততক্ষণে তার কোল আলো করে চলে এসেছে এক সন্তান । তার বয়স আড়াই বছরে । এই মত অবস্থায় তাকে ছেড়ে কোনভাবে সম্ভব হচ্ছিল না তার স্বপ্নপূরণ । কিন্তু মনে জোর রেখে এক বছরের জন্য তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন । এবং সেখানে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন । এবং প্রথমবারেই সাফল্য অর্জন করেন । তাঁর এই ক-ঠোর পরিশ্রম লক্ষ লক্ষ মেয়ের অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button