খুব সহজ পদ্ধতিতে দুর্দান্ত স্বাদের আমের টক ঝাল মিষ্টি আচার বানিয়ে প্রায় এক বছর সংরক্ষণের দারুন গো-পন টেকনিক, হবেনা নষ্ট, রইলো পদ্ধতি!

নিজস্ব প্রতিবেদন:গ্রীষ্মকালে আম মানুষের একটি অতি পছন্দের এবং সুস্বাদু ফল। এই ফল ভক্ষণ এর মাধ্যমে আমাদের দেহে নানান ধরনের পুষ্টি দ্রব্যের আগমন ঘটে থাকে। তবে শুধুমাত্র ফল হিসেবে নয় এই আমকে নানান রকম ভাবে খাওয়া যেতে পারে।যেমন এই আমের সাহায্যে অনেকেই চাটনি বানিয়ে থাকেন, অনেকেই আমের টক-ঝাল-মিষ্টি প্রভৃতি নানা ধরনের আচার তৈরি করেন।

এই চাটনি এবং আচার দুই খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। আমাদের বাড়িতে প্রায়শই এই রান্নাগুলো হয়ে থাকে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আলোচনা করব কাঁচা আমের পারফেক্ট টক-ঝাল-মিষ্টি আচার বানানোর পদ্ধতি। খুব সহজেই ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে আপনি এই আচার প্রস্তুত করতে পারবেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই আচারকে সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন।তাহলে আসুন দেরি না করে আমাদের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

এই আচার খুব সহজেই ঝড়ে পড়ে যাওয়া যেসব আমের আঁটি এখনো শক্ত হয়ে যায়নি তা দিয়ে বানানো যেতে পারে। প্রথমেই এরকম ধরনের পাঁচটি বড় সাইজের কাঁচা আম নিয়ে নিতে হবে। তারপর সেগুলিকে সমানভাবে টুকরো করে কেটে নিন। এবার আমের টুকরোগুলোকে একটি কিচেন টাওয়ালের উপররেখে দিয়ে পাখার হাওয়ায় শুকোতে দিন, যাতে এর থেকে সম্পূর্ণ জল শুকিয়ে যেতে পারে।

এবার একটি তাওয়া গরম করে তার মধ্যে মৌরি (১ চামচ), জিরে ( অর্ধ চামচ) এবং পাঁচফোড়ন দিয়ে দিন।এগুলিকে মৃদু আঁচে ড্রাই রোস্ট করতে হবে।যখন দেখবেন মসলা গুলি থেকে একটি সুন্দর গন্ধ আসছে তখন এগুলিকে আলাদা একটি পাত্রে ঠান্ডা করতে দিতে হবে। এবার কড়াইতে দুই টেবিল চামচ পরিমাণ সর্ষের তেল দিয়ে তাতে ক’টি শুকনো লঙ্কা, পাঁচফোড়ন দিয়ে দিন।

ফোড়নটি হালকা ভাজা ভাজা হয়ে গেলে এরমধ্যে আগের থেকে শুকিয়ে রাখা আমের টুকরোগুলোকে ঢেলে দিন। মিনিট খানেক নাড়াচড়া করার পর এতে স্বাদমতো নুন দিয়ে এবার আরো ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে। এরপর আমের মধ্যে স্বাদমতো চিনি ঢেলে দিন। মিষ্টি একটু বেশি রাখার চেষ্টা করবেন।

এছাড়াও বেশি পরিমাণে চিনি দিলে চিনির রসে আমগুলি পাক হলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এগুলিকে সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। চিনির রসে ফোটানোর সময় ক্রমাগত কড়াইতে থাকা আমগুলোকে নাড়াচাড়া করতে থাকবেন। এরপর এরমধ্যে সাদা ভিনিগার অ্যাড করে দিন। আমের পরিমাণ অনুযায়ী ভিনিগার এর পরিমাণ বাড়াতে হবে।

মোটামুটি কিছুক্ষণ ভিনিগার দিয়ে ফোটানোর পর এতে সামান্য পরিমাণে লঙ্কার গুঁড়ো যোগ করে দিন।দেখবেন লঙ্কার গুঁড়ো যোগ করে নাড়াচাড়া করার কিছুক্ষণ পর থেকেই আমগুলি খুব সুন্দর জুসি দেখতে হয়ে যাবে। এবার সর্বশেষ ধাপে, তৈরি করে রাখা ভাজা মসলা এই আমের আচারের মধ্যে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ মৃদু আঁচে মসলা গুলিকে মিশিয়ে নেওয়ার পর গ্যাস অফ করে দিতে হবে।

এরপর ঠান্ডা হওয়ার পর শুধু বা যে কোন খাবারের সাথে এই আচারটিকে পরিবেশন করতে পারেন। এই আচারটি একেবারেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি, এবং এতে কোনো রকমের রাসায়নিক খাদ্য দ্রব্য মেশানো নেই, তাই অত্যন্ত পুষ্টিকর।রান্নাটি বাড়িতে তৈরি করার পর কেমন লাগলো তা অবশ্যই একটি মতামতের মাধ্যমে আমাদের প্রতিবেদনের কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button